chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

খালেদা জিয়াকে চমেক হাসপাতাল থেকে নিরাপদে সরানোর দাবি বড় সাজ্জাদের

চট্টগ্রামের আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’–এর একটি দীর্ঘ অডিও বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে বহু বছর আগের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে তাকে নিরাপদে বের করে আনতে তিনি ও তার সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সোমবার ভাইরাল হওয়া অডিও বার্তায় সাজ্জাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় খালেদা জিয়া চমেক হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতালের বাইরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে তিনি বের হতে পারছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার অনুরোধে তিনি সহযোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যান।

সাজ্জাদের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে খালেদা জিয়ার নিরাপদে হাসপাতাল ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি অডিও বার্তায় উল্লেখ করেন।

অডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, ওই অভিযানে অংশ নেওয়া তার কয়েকজন সহযোগী পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র জীবিত প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলে উল্লেখ করেন।

তবে বড় সাজ্জাদের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বিদেশে অবস্থান ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অস্বীকৃতি
অডিও বার্তার শুরুতে সাজ্জাদ দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার নামে বিভিন্ন বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। কেউ তার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানোরও আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

অডিওতে সাজ্জাদ অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক নির্যাতন শুরু হয়। তার দাবি, ১৯৯৮ সালে তার বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গবাদিপশু ও পোষা কুকুর হত্যা এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনাও ঘটে। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আদালতে ওই মামলায় খালাস পেলেও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে আইনি লড়াই করেছি’

সাজ্জাদের দাবি, ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা করেন এবং কারাগারেও ছিলেন। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিদেশে চলে যান। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও অডিওতে উল্লেখ করেন।

নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং একসময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তবে রাজনৈতিক সংঘাত ও মামলার কারণে তার জীবন ভিন্ন পথে মোড় নেয় বলে দাবি করেন।

পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
অডিও বার্তার শেষাংশে সাজ্জাদ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, ভাই ওসমান আলীসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। থানা ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাতেও তাদের জড়ানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিয়েবাড়ি ও হাসপাতাল থেকে আটক করার ঘটনাও উল্লেখ করেন।

যাচাই হয়নি দাবিগুলো
ভাইরাল অডিও বার্তায় উত্থাপিত খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা, রাজনৈতিক নির্যাতন, বিভিন্ন মামলার বিবরণ এবং পরিবারকে হয়রানির অভিযোগসহ সাজ্জাদের সব বক্তব্যই তার নিজস্ব দাবি। এসব তথ্যের স্বাধীন বা সরকারি যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর