তৃণমূলের ক্রিকেট শক্তিশালী করতে বিসিবির মেগা প্ল্যান
দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নীতিগত নেতৃত্বে ফিরেছেন সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর। বোর্ডের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েই দেশের ক্রিকেটের তৃণমূল কাঠামো বদলে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। তাঁর মূল লক্ষ্য দেশের প্রতিটি জেলায় নিয়মিত লিগ মাঠে নামানো, চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের একাডেমি গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক ক্রীড়া অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন।– বাংলানিউজ ২৪
সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও তৃণমূলের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বিসিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জানান, জেলা পর্যায় থেকে পাইপলাইনে নতুন প্রতিভা সরবরাহ বাড়াতে ৬৪টি জেলায় নিয়মিত লিগ আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলাগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে মাঠের বর্তমান অবস্থা, উইকেটের সুবিধা এবং ক্রিকেটীয় সংকটের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তিন ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
প্রথম ধাপ (ডিসেম্বর ২০২৬): যেসব জেলায় খেলার উপযোগী অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে, সেখানে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই খেলা শুরু হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (ফেব্রুয়ারি): দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২০টি জেলায় লিগ চালুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপ (মার্চ-এপ্রিল): শেষ ধাপে বাকি ২৪টি জেলায় লিগ শুরুর মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে।
জেলা ক্রিকেট লিগগুলোর আর্থিক সংকট দূর করতে প্রতি জেলাকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। তবে এই তহবিল দেওয়া হবে শর্তসাপেক্ষে। শুরুতে প্রস্তুতি ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদনের পর ২ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হবে। লিগ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি ৩ লাখ টাকা ছাড় করা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম (সাগরিকা) সংলগ্ন এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের আঞ্চলিক ক্রিকেট একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা করছেন সিরাজউদ্দিন আলমগীর। নারী কমপ্লেক্স ও বিদ্যমান আবাসন সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এই একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আগামী বোর্ড সভায় তোলা হবে। বর্তমান বিসিবি সভাপতি চট্টগ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় এই অঞ্চলের ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশেষ গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি ঢাকার বাইরে ক্রীড়া অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলা হলেও সেখানে আধুনিক ইনডোর বা জিমনেশিয়ামের অভাব রয়েছে। খেলোয়াড়দের সারা বছর অনুশীলনে রাখার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
সিরাজউদ্দিন আলমগীর কেবল ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তিনি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মতো পার্বত্য অঞ্চলগুলোর প্রাকৃতিক প্রতিভাকে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা ক্রিকেট ছাড়াও নারী ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর মতো খেলায় ইতিমধ্যে নিজেদের প্রমাণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে এই অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি সম্ভব।
ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের কথা জানিয়ে বিসিবি পরিচালক বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা যৌথভাবে কাজ করলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের খেলার মান উন্নত হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায় (সিজেকএস) একটি গতিশীল নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিলে কাজের গতি আরও বাড়বে। কারণ ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হওয়া বেশি প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করলে চট্টগ্রাম আবারও দেশের প্রধান ‘ক্রীড়া রাজধানী’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মুন্নি/চখ
