কর্মকর্তাকে মারধর- গ্রেপ্তার ১
সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ড মালিকের গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকের গাড়ির গতিরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ইয়ার্ডের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় সোনাইছড়ি সাগরপাড়ের খোঁজার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. জাহাঙ্গীরকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর মধ্য সোনাইছড়ি বক্তারপাড়া এজাহার মেম্বার রোড এলাকার মুফিজুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি সাগরপাড়ে অবস্থিত ‘বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম নুরুন নবী তার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ইয়ার্ড থেকে বের হন। গাড়িটি খোঁজার পাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিমে পৌঁছালে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী সেটির গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক এমডি এসএম নুরুন নবীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
মো. আলমগীর হোসেন (বাদী ও পিআরও) বলেন,
সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও তার দলবল চাঁদার দাবিতে আগেও আমাদের ইয়ার্ডে গিয়ে নানা ঝামেলা করেছে। সর্বশেষ ৫ লাখ টাকার জন্য এমডির গাড়ির গতিরোধ করে তাকে নামিয়ে ফেলে। আমরা বাধা দিতে চাইলে আমাদেরও পিটিয়ে জখম করে এবং আমাদের সাথে থাকা টাকাও লুট করে।”
এমডিকে ঘিরে রেখে গালিগালাজ করার দৃশ্য দেখে পেছনে অন্য গাড়িতে থাকা বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ডের পাবলিক রিলেশন অফিসার (পিআরও) মো. আলমগীর হোসেন, কোম্পানির পরিচালক নাজমুল হুদা, ভূমি অফিসার অহিদুনর রহমান এবং ইয়ার্ড ম্যানেজার সাহাবউদ্দিন দ্রুত এগিয়ে আসেন।
তারা বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্বে থাকা মো. জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। কর্মকর্তারা মার খেয়েও কৌশলে এমডি এসএম নুরুন নবীকে গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন। এতে জাহাঙ্গীর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পিআরও আলমগীরকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে আলমগীর হাত দিয়ে বাধা দিলে তার হাত ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শনিবার রাতেই বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ডের পিআরও মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, “চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা প্রধান আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মুন্নি /চখ
