chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসা খরচ কমবে

হার্টের রিং, ডায়ালাইসিস ফিল্টার ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের ফলে চিকিৎসা খরচ কমতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই প্রস্তাব পেশ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে আরোপিত ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিটি রিংয়ের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে।

একইসঙ্গে কিডনি রোগীদের জন্য ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব ফিল্টারের দাম কমার পাশাপাশি নিয়মিত ডায়ালাইসিস ব্যয়ও কমবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি রোগীর ডায়ালাইসিস খরচ গড়ে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

এছাড়া কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিস ব্লাড টিউবিং সেট আমদানির ওপর বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ অগ্রিম করও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। অর্থ বিভাগ একক সর্ববৃহৎ বরাদ্দ পেয়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, যা মূলত সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়। এটি মোট বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

শিক্ষা খাত সম্মিলিতভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (৫৭ হাজার ৩০২ কোটি) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা (৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি) মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বরাদ্দ গত বছরের সংশোধিত বাজেটের ২১ হাজার ৯৩৪ কোটির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। এটি বেড়ে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিশেষ মনোযোগের প্রমাণ।

বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। দেশীয় ব্যাংক ও বিদেশি ঋণদাতাদের কাছ থেকে এই ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গেও চলছে নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা।

বেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এবারের বাজেট এলো। গত এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে ৩০.৬০ শতাংশে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর