chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

লোহাগাড়ায় টিলা কেটে মাটি ও প্লট বিক্রি

লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলার মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। উপজেলার চুনতী ইউনিয়নের ৬ ন¤^র ওয়ার্ডের বাগান পাড়া চুনতী সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ টিলা কাটা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার চুনতী ইউনিয়নে চুনতী মহিলা সরকারি ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণ পাশে ও সীরাত মাঠের উত্তর পাশে দিনরাত টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি সিন্ডকেট। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে ১২ জন সদস্য। প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী মুখ খোলছে না তাদের বিরোদ্ধে। টিলার মালিকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সমতল করার চুক্তি করেছে ওই মহল। প্রায় ৫০ ফুট উঁচু দুই একর আয়তনের টিলাটি অধিকাংশ স্কেভেটর দিয়ে কেটে নিয়ে গেছে। এসব মাটি নিয়ে কলেজ সংলগ্ন এলাকায় জলাশয়, বসতবাড়ি ভরাট ও ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবে টিলা কাটার ফলে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। টিলা কাটার কারণে বর্ষায় ভূমি ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে। দিনরাত মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, রাতের আঁধারে স্থানীয় ১২ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা করছে। টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে। এরপর প্লট করে ঘর করার জন্য বিক্রি করা হবে। টিলার মাটি কেটে বিক্রি করার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করে প্রভাবশালী চক্রের রোষানলের শিকার হয়েছেন। ঐতিহাসিক সীরত মাহফিলে আগত অতিথিদের যাতায়াতের জন্য নির্মিত সড়ক ভারী মাটিবাহী ট্রাক ও এস্কেভেটর চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি সংস্কার করা কয়েকটি স্থানীয় সড়কও দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মুসেফ বাজার থেকে হাজীপাড়া সড়কের সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া চুনতি শামসু হাজী পাড়ার একটি ছোট খালের কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনেও অতিরিক্ত বালু ও মাটি পরিবহনকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আল মুহতাদি বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট টিলাটি কেটে মাটি বিক্রি করছে। এভাবে টিলা কেটে মাটি বিক্রির ফলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। রাতে মাটি পরিবহণের কারণে গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে যাচ্ছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, টিলা কেটে মাটি বিক্রির কোনো ধরনের সুযোগ নেই। টিলা ও মাটি কাটার জন্য দায়ীদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমš^য়ক মনিরা পারভিন রুবা বলেন, “পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে যে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা খুবই নগণ্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরিমানা করে জায়েজ করা হচ্ছে পাহাড় কাটার মত অপরাধ। আবার মামলা করা হলে অপরাধীরা পার পেয়ে যান আইনের ফাঁক গলে। যে কারণে চট্টগ্রামে পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এমনটা চলতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর চট্টগ্রামে কোনো পাহাড়ই থাকবে না।

ফরিদা|চখ

 

এই বিভাগের আরও খবর