প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭
দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে অগ্রিম কর, বাড়তে পারে ইটের দাম
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইটভাটার অগ্রিম কর দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে আরও কঠোর শর্ত। এর ফলে আগামী অর্থবছর থেকে বাজারে ইটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য—‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। এই বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অংশ হিসেবেই ইটভাটার ওপর করের বোঝা বাড়ানোর এই প্রস্তাব।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ইট পোড়ানোর আগেই প্রস্তুতকারককে এই অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে।
এক সেকশন ইটভাটা: সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮ হাজার ঘনফুট আয়তনের এই শ্রেণির ইটভাটার জন্য বর্তমানে ৪৫ হাজার টাকা কর নির্ধারিত রয়েছে। তবে আগামী অর্থবছরে তা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দেড় সেকশন ইটভাটা: এই ক্যাটাগরির ইটভাটার ক্ষেত্রে বর্তমান করহার ৭০ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই সেকশন ইটভাটা: বর্তমানে এই ধরনের ইটভাটার জন্য ৯০ হাজার টাকা কর নির্ধারিত থাকলেও, নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় ও অন্যান্য ইটভাটা: বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় মেশিনভিত্তিক ও অন্যান্য ইটভাটার জন্য অগ্রিম করের হার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে আগামী অর্থবছরে আয়তনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের বাইরে থাকা এই ধরনের ভাটাসমূহের জন্য কর একলাফে দ্বিগুণ করে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অগ্রিম কর বাড়ানোর পাশাপাশি ইটভাটা আইন, ২০১৩-এর আওতায় লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত অগ্রিম কর পরিশোধের চালান এবং হালনাগাদ আয়কর পরিশোধের সনদ জমা দেওয়া ছাড়া কোনো অবস্থাতেই নতুন লাইসেন্স বা নবায়ন করা যাবে না। যদি কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই শর্ত উপেক্ষা করে বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করেন, তবে সেই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাকেও ‘খেলাপি করদাতা’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন খরচের ওপর করের এই বিশাল প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে ভোক্তার পকেটে, যার ফলে আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মুন্নি/চখ
