মাতামুহুরীতে মা-মেয়ের ওপর নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৬
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে ৮–১০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। একপর্যায়ে প্রবাসীর স্ত্রী ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, কিশোরীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজন সাইদুল ইসলাম মারুফ বলেন, “ডাকাতরা শুধু লুটপাটই করেনি, তারা আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। আমার ভাগ্নির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং আশপাশে অভিযান পরিচালনা করে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডাকাতি ও ধর্ষণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযানে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। তারা সবাই পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় পুরো মাতামুহুরী ও চকরিয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাসু/চখ
