শিশু রামিসা হত্যা
ফাঁসির সেলে প্রধান আসামি সোহেল- স্বপ্না
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারের ‘কনডেম সেলে’ (ফাঁসির সেল) স্থানান্তর করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই সোহেল রানাকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ।
তিনি জানান, দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসির অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের যেভাবে রাখা হয়, সোহেল ও স্বপ্নাকেও ঠিক একই প্রক্রিয়ায় কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।
অন্যান্য কয়েদিদের মাঝে তাদের নিরাপত্তা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে এই কারা কর্মকর্তা বলেন, “কারাগার একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ জায়গা। আসামিদের সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সেখানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকেন। যদি কোনো কয়েদি অন্য কারও প্রতি বিরূপ আচরণ বা মারামারি করে, তবে তাকে শাস্তিমূলক সেলে (পানিশমেন্ট সেল) সরিয়ে নেওয়া হয়।”
ফাঁসির আসামিদের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর আসামিরা চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপে থাকে। তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই সুরক্ষার স্বার্থেই সাধারণত ফাঁসির আসামিদের একা রাখা হয় না। সেলের আয়তন অনুযায়ী প্রতিটি সেলে ২ থেকে ৫ জন আসামিকে একসঙ্গে রাখা হয়।”
উল্লেখ্য, গত রোববার (৭ জুন) মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে দেশের বিচারিক ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম সময়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে আদালত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
মুন্নি/চখ
