chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ইরানে ইসরায়েলের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

তেহরানসহ ৪ শহরে বিস্ফোরণ, বিমানবন্দর বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়।

রোববার ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ, ইস্পাহান এবং কারাজ শহরে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেহরানের ইমাম খামেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েল এই হামলায় আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে হামলায় এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-র তথ্যমতে রাজধানী তেহরানে অন্তত দুটি ‘শক্তিশালী’ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। মধ্যাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে অন্তত তিনটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাবরিজ এবং কারাজ শহরের পাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত এপ্রিল মাসেই চালু হয়েছিল খামেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি। কিন্তু রোববারের এই হামলার পর বিমানবন্দরটির সমস্ত ফ্লাইট অপারেশন আবারও স্থগিত করা হয়েছে।

এই হামলার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “সতর্ক হয়ে যাও।” উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু গত ৭ জুন (শনিবার) ইরান সেই চুক্তি ভেঙে ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যার পর পরই ট্রাম্প ইরানকে ‘আলোচনার টেবিলে ফেরার’ আহ্বান জানান। জানা গেছে, ট্রাম্পের এই আহ্বানের কারণেই নেতানিয়াহু প্রথমে ইরানে পাল্টা হামলা কিছুটা পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোববার এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিল তেল আবিব।

 

তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপি।

এই বিভাগের আরও খবর