chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

দাদি-নানির পুরোনো ‘ন্যাচারাল ডিওডোরেন্ট’ ফিটকিরিতেই মুগ্ধ নতুন প্রজন্ম

বর্তমান যুগে ব্যক্তিগত পরিচর্যায় মানুষ কেমিক্যালের চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে বেশি ঝুঁকছে। স্কিনকেয়ার ও হেয়ার কেয়ারের পর এই পরিবর্তনের হাওয়া এবার লেগেছে বডি কেয়ারেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ডিওডোরেন্টের বিকল্প হিসেবে দাদি-নানিদের যুগের ঐতিহ্যবাহী উপাদান ‘ফিটকিরি’র ব্যবহার নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। অনেকেই বাজারের নামী-দামী ডিওডোরেন্ট ছেড়ে এই সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক উপাদানটি বেছে নিচ্ছেন এবং নিজেদের দারুণ সব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন।

ফিটকিরির কোনো কৃত্রিম সুগন্ধি নেই। বাজারের ডিওডোরেন্টের মতো এতে কোনো কড়া বা কৃত্রিম সুবাস থাকে না। এতে কোনো জটিল কেমিক্যাল কম্পোনেন্ট নেই, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দাম তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

ফিটকিরি বা অ্যালাম হলো একটি প্রাকৃতিক খনিজ লবণ। প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমান সভ্যতা থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ায় বহু শতাব্দী ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। পানি পরিশোধন, কাপড় প্রক্রিয়াজাতকরণ, ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া ও শেভিংয়ের পর ত্বক ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া রূপচর্চায় এটি একটি অতি পরিচিত নাম।

দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ফিটকিরি যেভাবে কাজ করে

আমরা অনেকেই জানি না যে, ঘাম নিজে কিন্তু দুর্গন্ধযুক্ত নয়। দুর্গন্ধ তখনই তৈরি হয়, যখন ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের সংস্পর্শে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটকিরির মধ্যে রয়েছে চমৎকার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য। ত্বকে এটি ব্যবহারের ফলে একটি পাতলা অদৃশ্য স্তর তৈরি হয়, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। ফলে শরীরের দুর্গন্ধ প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসে।

একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি ফিটকিরি কোনো ‘অ্যান্টিপার্সপির্যান্ট’ নয়। অর্থাৎ, এটি শরীরের স্বাভাবিক ঘাম হওয়া বন্ধ করে না। বরং ঘামপ্রক্রিয়া সচল রেখেই দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। আর এই কারণেই স্বাস্থ্য সচেতন নতুন প্রজন্মের কাছে এটি সেরা বিকল্প হয়ে উঠেছে।

ব্যবহার পদ্ধতি

ফিটকিরি ব্যবহারের নিয়ম খুবই সহজ ও সাধারণ গোসলের পর শরীর পরিষ্কার থাকা অবস্থায় এটি ব্যবহার করতে হয়। ফিটকিরির টুকরোটি সামান্য পানিতে ভিজিয়ে বগলে বা কাঙ্ক্ষিত ত্বকে আলতোভাবে ঘষে নিন। এটি দ্রুত শুকিয়ে ত্বকে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘষাঘষি করা থেকে বিরত থাকুন।

ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু সতর্কতা বিশেষজ্ঞ মতামত

কিছু গবেষণায় পটাশিয়াম অ্যালামের জীবাণুরোধী ক্ষমতার প্রমাণ মিললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কার্যকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন।

ফিটকিরি সাধারণত নিরাপদ, তবে সংবেদনশীল ত্বকে হালকা জ্বালাপোড়া বা শুষ্কতা হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। এটি কোনো ম্যাজিক নয়। ফিটকিরি কোনো স্থায়ী বা জাদুকরী সমাধান নয়। শরীরের দুর্গন্ধমুক্ত ও সতেজ রাখতে নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার পোশাক পরিধান এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই আসল চাবিকাঠি।

সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া

মুন্নি/চখ

এই বিভাগের আরও খবর