chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

নিঃসঙ্গ জীবনে অপরাজিতা: মেসাংউ মার্মা

বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলার ২নং সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছাইপো পাড়ার বাসিন্দা মেসাংউ মার্মা (৭১) জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিঃসঙ্গতা, দারিদ্র্য ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে নীরবে লড়াই করে চলেছেন। একসময় স্বামী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট সংসার ছিল। কিন্তু জন্মের পরই দুই কন্যা সন্তান মারা যায় এবং প্রায় ছয় বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট্ট মাচাংঘরে বসবাস করছেন এই বৃদ্ধা। ঘরের মধ্যে রয়েছে মাত্র দুটি কলসি, তিনটি হাঁড়ি এবং কিছু পুরোনো কাপড়চোপড়। দুপুরের খাবারের জন্য অল্প কিছু শাকসবজি রান্না করছিলেন তিনি। ভাতও রান্না করেছেন সামান্য পরিমাণে। জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, অনেকদিন ধরে ভালো খাবার খাওয়া হয় না। বর্তমানে সরকারের দেওয়া সামান্য বয়স্ক ভাতার ওপরই তার জীবন-জীবিকা নির্ভর করছে।

মেসাংউ মার্মা বলেন, বয়সের ভারে এখন চোখে ভালোভাবে দেখতে পাই না। আগের মতো জুমচাষ কিংবা বাগানের কাজও করতে পারি না। বয়স্ক ভাতার ১ হাজার ৯০০ টাকা দিয়েই কোনোভাবে দিন কাটাতে হয়। তাও আবার প্রত্যক মাসে পায়না ৩ থেকে ৪ মাস পরপর পেয়ে থাকি। বয়সজনিত নানা সমস্যার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিবারের কেউ পাশে না থাকায় দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেও তাকে নানা কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়।

বর্তমানে তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছোট বোনের পরিবার। তারা মাঝেমধ্যে চাল, শাকসবজি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেন। তবে দূরে বসবাস করার কারণে সবসময় পাশে থাকা সম্ভব হয় না। ফলে অধিকাংশ সময়ই একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটে এই বৃদ্ধার।

মেসাংউ মার্মার ভাগ্নি অংসাইওয়াং মার্মা, যিনি বর্তমানে রুমা সরকারি সাঙ্গু কলেজে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত, বলেন, আমি আমার মাসির বাসায় থেকে পড়াশোনা করি। মাসি খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আমাদের পরিবার যতটুকু সম্ভব তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য সীমিত। তাই সবসময় প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না।

স্থানীয়দের মতে, মেসাংউ মার্মার মতো অসহায় ও নিঃসঙ্গ প্রবীণদের প্রতি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও মানবিক দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়ে কিছুটা স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারবেন এই বৃদ্ধা।

মেসাংউ মার্মার জীবনসংগ্রামের গল্প পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অসংখ্য অসহায় প্রবীণের বাস্তব চিত্রকেই সামনে নিয়ে আসে, যেখানে বার্ধক্য, দারিদ্র্য ও একাকীত্ব প্রতিদিন নতুন করে সংগ্রামের নাম হয়ে।

ফরিদা|মআ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর