chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকার

আমাদের ইরানে যাওয়া উচিত হয়নি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ভূরাজনীতিতে এক ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে কোনো অবস্থাতেই জড়ানো বা প্রবেশ করা উচিত হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে (Fox News) দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক নীতি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বর্তমান স্তর এবং সাম্প্রতিককালের অত্যন্ত জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও বিস্ফোরক এই মন্তব্য করেন। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা (Al-Jazeera)-র এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের কঠোর অবস্থান ও অতীতে মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত ভুলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনারা একটু পেছনের দিকে তাকিয়ে ইরাকের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। আমরা সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ এবং জটিল করেছি।

এটি ছিল তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া একেবারেই একটি বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কাজ। আমাদের শুরুতেই কোনো অবস্থাতেই সেখানে বা ওই যুদ্ধে যাওয়া উচিত ছিল না।’ মধ্যপ্রাচ্যের ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিজের বক্তব্যে আরও স্পষ্টভাবে যোগ করে বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের তৎকালীন সময়ে কিংবা পরবর্তীতে ইরানে যাওয়াও কোনোভাবেই উচিত হয়নি।’

তবে নিজের এই নীতিগত স্বীকারোক্তির পাশাপাশি একই সঙ্গে মার্কিন সুরক্ষানীতির পক্ষে জোরালো দাবি তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু বিশেষ ও সময়োপযোগী সামরিক পদক্ষেপ যদি সময়মতো না থাকত, তাহলে ইরান ইতিমধ্যে বিশ্বকে চমকে দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলতো। নিজের সামরিক কৌশলের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে তাঁর নিজস্ব ভাষায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যদি আজ থেকে ঠিক নয় মাস আগে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী বি-২ (B-2) বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের কৌশলগত অবস্থানগুলোর ওপর আকস্মিক হামলা না করতাম, তাহলে তারা এই মুহূর্তেই সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলতো এবং আজকের দিনে এসে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও মারাত্মক জটিল হতো।’ ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠোর পরিস্থিতি ও পদক্ষেপ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ইতিমধ্যেই মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারতো।

এই প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র দেশটিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই সময়োচিত বিমান হামলা না হলে আপনি হয়তো আজকের দিনে এসে এই মানচিত্রে ইসরায়েলকেও (Israel) দেখতে পেতেন না, এমনকি হয়তো পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেও না। তারা পরমাণু অস্ত্র পাওয়ার পর এরপর তারা যে কোথায় গিয়ে থামতো বা আঘাত হানতো, তা কে বলতে পারে?’ তবে এই সামরিক পদক্ষেপের মাঝেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের মূল সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক লক্ষ্যবস্তু না করার নীতি বজায় রেখেছিল, সাক্ষাৎকারে সেই বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি এই বিষয়ে মার্কিন কৌশল ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা ইরানের মূল সামরিক বাহিনীকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছি এবং তাদের বড় ক্ষতি করিনি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে অনেকটাই মধ্যপন্থী। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যান্য অংশগুলো কিন্তু মোটেও মধ্যপন্থী নয়, আর ঠিক সেই উগ্র অংশগুলোকেই আমরা নিখুঁতভাবে আমাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু করেছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করেন যে, অতীতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে বা পুরো দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো কিছু ভুল সিদ্ধান্ত অন্য মার্কিন নেতাদের দ্বারা নেওয়া হয়েছিল, যার অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ও নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে পড়েছিল। নিজের এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কথায় ট্রাম্প বলেন, ‘বিগত যুদ্ধগুলোর সময় একটি দেশের সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার মতো কিছু চরম ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার সরাসরি ফলে আজকের দিনে এমন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তৈরি হয়, যা পরবর্তী ৪০ বছরেও আর কোনোদিন পুনর্গঠন বা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।’

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর