chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কিংবদন্তি তকমায় অনীহা এনরিকের, টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ-সেরা পিএস

মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া যেকোনো দলের জন্যই চরম এক ধাক্কা। আর্সেনালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখিই হতে হয়েছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি)। তবে সেই ধাক্কা সামলে নিয়ে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের পর আধুনিক চ্যাম্পিয়নস লিগের (১৯৯২ পরবর্তী) ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার শিরোপা ধরে রাখার অনন্য কীর্তি গড়ল পিএসজি।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লুইস এনরিকে অবশ্য ‘কিংবদন্তি’ তকমা নিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কোচ হিসেবে এটি তাঁর তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “কিংবদন্তি? ওসবে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমার ঝুলিতে তো মোটে তিনটি শিরোপা। আমাকে আরও উন্নতি করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই আমি চতুর্থ শিরোপাটাও জিততে চাই।”

লন্ডনের ক্লাব আর্সেনালের জন্য ফাইনালের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় দারুণ এক গোল করে গানার্সদের এগিয়ে নেন কাই হাভার্টজ। হঠাৎ গোল খেয়ে বসা পিএসজিকে এরপর দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছে আর্সেনালের সুশৃঙ্খল ও জমাট রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় পিএসজি। উসমান দেম্বেলের সফল পেনাল্টি কিকে সমতায় ফেরে প্যারিসের দলটি। এরপর নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।

শুরুর সেই ধাক্কা নিয়ে এনরিকে বলেন, “ম্যাচটা ওদের (আর্সেনাল) জন্য আদর্শভাবেই শুরু হয়েছিল। কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় দ্রুতই গোল পেয়ে যায় তারা। এরপর আমাদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ আর্সেনাল খুব ভালো রক্ষণ সামলাতে জানে।”

প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে পিএসজি বস আরও যোগ করেন, “ওদের বিপক্ষে খেলাটা সত্যিই কঠিন ছিল। আমরা সাধারণত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলি, কিন্তু আর্সেনাল শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী দল। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা সমতায় ফেরার যোগ্য দাবিদার ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত।”

টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ-সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও এনরিকের কণ্ঠে ঝরল ক্লান্তি ও আন্দের এক মিশ্র সুর। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে অনুভূতিগুলো মিশ্র। আনন্দ আর ক্লান্তি—সবকিছু একসাথে কাজ করছে। তবে নিঃসন্দেহে এটিই মৌসুমের সেরা মুহূর্ত। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

এদিকে পিএসজির স্প্যানিশ এই কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, ক্লাব সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি এনরিকের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি এনরিকেকে ‘বিশ্বের সেরা কোচ’ হিসেবে আখ্যা দেন।

খেলাইফি বলেন, “তিনি শুধু একজন অসাধারণ কোচই নন, একজন দারুণ মানুষও। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তরুণ একটি দল নিয়ে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

এই বিভাগের আরও খবর