chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আপাতত ইতিবাচক অবস্থানে নেই কমিশন।

ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, প্রায় ৪৫০ উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ২ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিও চলমান।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা সংক্রান্ত মামলাগুলোর তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে ভোটের আগে জটিলতা নিরসন করা যায়।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত কিছু বিধিমালা ও আইন সংশোধনের কাজও এগিয়ে চলছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে গঠিত আইন সংস্কার কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী পোস্টার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা, ইভিএম না রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ বৃদ্ধি, জামানতের পরিমাণ বাড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকাতে নতুন বিধান যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শেষে নির্বাচন আয়োজনের অনুকূল সময় হতে পারে বছরের শেষভাগ। তবে বাজেট অনুমোদন, বিধিমালা সংশোধন এবং সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিষ্পত্তির ওপর নির্বাচনের সময়সূচি নির্ভর করবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করা।

তিনি বলেন, বাজেট পরিস্থিতি বিবেচনায় কম ব্যয়বহুল নির্বাচন আগে আয়োজন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অগ্রাধিকার পেতে পারে। শুধু ইউপি নির্বাচন আয়োজনেই কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ করতে হবে। প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় পরবর্তীতে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

মুন্নি/চখ

এই বিভাগের আরও খবর