chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

জলাবদ্ধতা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতিতে সরব সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা

দক্ষিণ আগ্রাবাদের দায়িত্ব নিতে চায় ওরা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতোমধ্যে উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ গড়ার নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। জলাবদ্ধতা, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ভাঙাচোরা সড়ক ও নাগরিক দুর্ভোগ—এসব পুরোনো সমস্যার সমাধানকে সামনে রেখেই ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তারা।

বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আয়তনে প্রায় ১ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার। এখানে রয়েছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ওয়ার্ডটির জনসংখ্যা প্রায় ৮৩ হাজারের বেশি। তবে নাগরিক সুবিধার ঘাটতি ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ওয়াসার চলমান সুয়ারেজ প্রকল্পের কারণে অনেক সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নাগরিক প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

ডাবলমুড়িং থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও থানার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মো. সেকান্দর বলেন, তিনি অতীতেও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, দক্ষিণ আগ্রাবাদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো মাদকের বিস্তার। নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি জানান, বর্তমান মেয়রের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কিছু সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী জমির আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তার মতে, ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের কারণে পুরো ওয়ার্ডের সড়ক ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণেই জলাবদ্ধতা ও সড়ক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি দ্রুত সড়ক সংস্কার ও টেকসই জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্ব দেবেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সরকারি কমার্স কলেজ চট্টগ্রামের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। করোনাকালসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ আগ্রাবাদে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হওয়ায় এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জলাবদ্ধতা, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসকে ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিনের অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এসব সংকট সমাধান হয়নি। নির্বাচিত হলে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান রুবেল সর্দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার দাবি, বিগত সরকারের সময় তিনি একাধিক মামলার শিকার হয়েছেন এবং কারাভোগও করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেও এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চান। নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূল, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো তিনি খুব কাছ থেকে জানেন।

সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন (শাহীন পাটোয়ারী) বলেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করতে চান। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর বিকল্প নেই। তার মতে, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বর্তমানে দক্ষিণ আগ্রাবাদের বড় সমস্যা। নির্বাচিত হলে একটি অসাম্প্রদায়িক, মাদকমুক্ত, সুশিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ আগ্রাবাদ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা হলেও অদক্ষ নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ভাঙাচোরা সড়ক, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাদক ও বখাটেদের উৎপাত সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। করোনাকালে অসহায় মানুষের বাড়িতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও জনবান্ধব ওয়ার্ড গড়ে তুলবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দক্ষিণ আগ্রাবাদের সবচেয়ে বড় সংকট জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক সড়ক ডুবে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এছাড়া মশার উপদ্রব, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারও এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দক্ষিণ আগ্রাবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া এ ওয়ার্ডকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগর এলাকায় রূপ দেওয়া সম্ভব নয়।

এলাকার বাসিন্দা শাহজালাল মিয়া বলেন, নির্বাচনী মাঠে দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়নের রূপ পায় সেটি আসলেই দেখার বিষয়। আমরা চাই, যিনি আমাদের জন্য কাজ করবে এমন একজন প্রতিনিধি চাই।

এই বিভাগের আরও খবর