জুয়া-মাদকের আস্তানায় হানা, একদিনেই আটক ১৩
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে ইউনিয়নভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। অভিযানে ১৩ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শীলকূপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। মাদকসেবন, প্রকাশ্যে জুয়া এবং অনলাইন বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য অভিযানে অংশ নেন। শীলকূপ ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলি, দোকানপাট এবং অভিযোগের ভিত্তিতে চিহ্নিত কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ অভিযান চালানো হয়।
মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকসেবনের দায়ে উত্তর চাম্বল মিঠাপাড়া এলাকার মো. আবদুল কাদের (৪২) কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মাইঝপাড়া এলাকার মো. আবুল বশর (২৯) ও নুরুল আমিন প্রকাশ টেনশন আমিন (৪৪) কে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জালিয়াখালী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আজিজ (২০) ও মো. ছাবের আহমেদ (৩৪) কে তিন মাস করে এবং বাণীগ্রামের নতুনপাড়া এলাকার মো. আলাউদ্দিন (৪৫) কে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা ও অনলাইন বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে মনকিচর এলাকার সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে মো. দিদারুল আলম (২২) কে ছয় মাস, আজগর হোসেন (৩২) কে তিন মাস এবং সাহাব উদ্দিন (৩০), আব্দুল জব্বার (৫৫), আব্দুল গফুর (৩০), মনছুরুল হক (৪০) ও মো. মোজাফফর আহমদ (৪২) কে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাঁশখালীকে মাদক ও জুয়ার প্রভাবমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে। তাই এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তাসু/চখ
