নাফ নদীর পূর্বপারে গোলাগুলি, নিরাপদে ফিরলেন জেলেরা
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি (এএ) ও একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। থেমে থেমে চলা গোলাগুলির শব্দে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নাফ নদীতে মাছ শিকারে থাকা জেলেরা প্রাণভয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় থেমে থেমে শতাধিক গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন জেলে জানান, সকালে তারা নাফ নদীর উত্তর দিক থেকে একটি লাল রঙের স্পিডবোট দ্রুতগতিতে যেতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরই মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে হঠাৎ গুলির বিকট শব্দ ভেসে আসতে শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নদী ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন। জেলেদের ভাষ্য, গুলির শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে সীমান্ত এলাকার লোকজনের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে আরাকান আর্মি ও বিভিন্ন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নাফ নদী সীমান্তের পূর্ব পাশে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সম্ভাব্য গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কারণে সেখানে প্রায়ই এ ধরনের সংঘর্ষ হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
