chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মায়ানমারে পাচারকালে ৩ ট্রলারে ২৪০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ৩৩

সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্টসহ তিনটি ফিশিং ট্রলার জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাটে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শাহপরীরদ্বীপ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার দিনব্যাপী পরিচালিত নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড শাহপরীরদ্বীপ আউটপোস্টের যৌথ অভিযানে এসব সিমেন্টসহ ট্রলার ও পাচারকারীদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ভোলা জেলার মো. হান্নান (৪৫), মো. রিপন (২৩), মো. আব্দুল হালিম (২৯), মো. শিফন (২২), আব্দুল হালিম (২৮), মো. শাহিন (১৯), মো. রুবেল (২৫), লক্ষীপুর জেলার মো. জুয়েল (২০), মো. রিয়াজ (২৬), মো. সবুজ (২২), মো. সোলেমান (৪১), আনোয়ার হোসেন (৪৩), মো. শাহিন (২৮), মো. আক্তার হোসেন (২২) ও মো. হোসন (৪০); কক্সবাজার জেলার জমির উদ্দিন (৩৫), সাহাবুদ্দিন (৪৫), মো. মনির (৩৫), মো. রুবেল (২৬), মো. ফারুক (২৬), চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মো. সরোয়ার (৩৪), চন্দনাইশের মো. তৌহিদ (২২), সন্দ্বীপের মো. শিপন (৫১), আলাউদ্দিন (২০), আকবরশাহ এলাকার মো. সোহাগ (৩৪), মো. নাদিম (৩০), মো. জনি (৩১), সাদ্দাম (২৪), মিরসরাইয়ের আব্দুল করিম (৪২), মাঈনউদ্দীন (৪৭) ও মোস্তাকিন আরাফাত (২২), কুমিল্লা জেলার মো. শরিফ (২২) ও সিলেটের মো. ফাহাদ (২৩)।

শাহপরীরদ্বীপ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী জানান, শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ফিশিং ট্রলারে থাকা মোট ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসময় ট্রলার গুলোতে থাকা ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রামে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিমেন্ট সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মায়ানমারের একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জব্দ করা সিমেন্ট, ব্যবহৃত তিনটি ট্রলার এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পাচার ও চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে সিমেন্টবোঝাই তিনটি ট্রলারসহ ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর