chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

একই রোগীর ভিন্ন দুই রিপোর্ট, পরিবারের প্রশ্ন কোনটা সঠিক?

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে এক শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দুই ভিন্ন রিপোর্টকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একটি হাসপাতালে ডেঙ্গু ও টাইফয়েড শনাক্ত হলেও, পরদিন অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। এ ঘটনায় পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিশুটির পরিবার।

 

শিশুটির বাবা মো. ইলিয়াস জানান, গত ২ মে রাত আড়াইটার দিকে তার সাত বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়াতুত তায়্যিব ফায়িজা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে আগ্রাবাদ এলাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদ-এ নেওয়া হয়। সেখানে নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাফল উল্ল্যাহ শিশুটিকে পরীক্ষা করে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালটির নিজস্ব ল্যাবেই পরীক্ষাগুলো করা হয়। রিপোর্টে শিশুটির ডেঙ্গু ও টাইফয়েড শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দেন।

 

তবে হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনের উচ্চ ভাড়া এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে কয়েকদিন পাওয়া যাবে না এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি অন্য হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে একই পরীক্ষাগুলো পুনরায় করাতে আগ্রাবাদের শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

 

কিন্তু দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় ডেঙ্গু ও টাইফয়েড—দুইটির ফলাফলই নেগেটিভ আসে। এতে শিশুটির পরিবার চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।

 

শিশুটির বাবা মো. ইলিয়াস দাবি করেন, পরে তিনি প্রথম চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে চিকিৎসক দুঃখ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ল্যাব পরীক্ষায় এর আগেও এমন অসঙ্গতি দেখা গেছে। অনেক সময় তিনি রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শও দিয়ে থাকেন বলে উল্লেখ করেন।

 

পরিবারের দাবি, চিকিৎসক বিষয়টি হাসপাতালের ল্যাবে ফোন করে জানতে চান এবং পরিচালনা পরিষদকে অবহিত করার কথাও জানান।

 

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, একই রোগীর পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ রিপোর্ট রোগীর সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত করতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থাও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদের পরিচালক ডা. ইদ্রিস উল্যাহ ভূঁইয়া দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন, “রিপোর্ট ভুল হয়েছে এভাবে বলা ঠিক হবে না। এখানে মূলত সময়ের কিছু পার্থক্য রয়েছে।”

 

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষা সাধারণত জ্বর শুরুর প্রথম চার দিনের মধ্যে পজিটিভ আসে। শিশুটির জ্বর তিন দিন আগে শুরু হয়েছিল এবং পরীক্ষার দিন চার দিন পূর্ণ হয়। সে কারণেই তখন রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে আবার পরীক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল নেগেটিভ দেখা যেতে পারে।

 

টাইফয়েড পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের ল্যাবে ‘উইকলি’ পর্যায়ের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। অন্যদিকে পরবর্তী পরীক্ষায় সেটিকে নেগেটিভ দেখানো হয়েছে। তার দাবি, শিশুটিকে যে সাধারণ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তাতে উপসর্গ কমে যেতে পারে অথবা এরই মধ্যে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর