chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

পেকুয়ায় নারীসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে নারীসহ তিনজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, তিনটি মোবাইল ফোন এবং মাদক সরবরাহে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা।

রবিবার  রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া চৌমুহনী এলাকার মৌলভী নুরুল হক চৌধুরী মার্কেট সংলগ্ন বদরখালী সিএনজি স্টেশনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাজ্জাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে।

পরে তাদের দেহ ও বহনকৃত সামগ্রী তল্লাশি করে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যা মাদক লেনদেন ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নীলা ইউনিয়নের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী নুর জাহান (৩৫) এবং একই উপজেলার হোয়াইক্যং উত্তর পাড়া এলাকার ফরিদ আলমের মেয়ে রুমি আক্তার (২১)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন তাদের মাদক সরবরাহের উৎস, রুট এবং সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করেছে।

স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টেকনাফ সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা ইয়াবা পাচার চক্রের একটি অংশ হিসেবে তারা কাজ করছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে অভ্যন্তরীণ জেলায় মাদক প্রবাহ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) ১০(খ)/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর-০৮। সোমবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারিক আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে পেকুয়া থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, পেকুয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর