chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলে দেশে ফিরলেন

মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিকট আটক থাকা ১ রোহিঙ্গাসহ ১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (৯ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তারা টেকনাফ পৌর শহরের ট্রানজিট জেটি ঘাটে পৌঁছান। পরে যাচাই-বাচাই করে তাদেরকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সীমান্তবর্তী জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে জেলেদের আটক করে আরাকান আর্মি। এসব জেলেদের ফেরত আনতে বিজিবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কার্যকর যোগাযোগ বৃদ্ধি কর। এরই ধারাবাহিকতায় আরাকান আর্মি তাদের হেফাজতে থাকা জেলেদের মধ্যে ১৪ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে।

তারা হলেন- নোয়াখালীর হাতিয়ার মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (৫৫), নোয়াখালীর সূবর্ণচরের মোহাম্মদ নুর উদ্দিন (৩০), সূবর্ণচরের মো. শাহাজান (২০), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর সুরমা সেতু গ্রামের মো. কামাল ( ৪০), নোয়াখালীর হাতিয়ার মো. সোহেল (২২), নোয়াখালীর হাতিয়ার মো. নুর আলম (৫০), নোয়াখালীর হাতিয়ার মো. সোহেল (২৬), ভোলার রায়পাশা গ্রামের মো. রাশেদ (২৭), চট্টগ্রামের হালি শহরের মো. সুমন (২০), আনোয়ারার মো. শাহাবুদ্দিন (২০), বান্দরবানের লামার মো. মনির হোসেন (২৫), কক্সবাজারের মহেশখালীর মোহাম্মদ আইয়ুব ( ৪০), মহেশখালীর মো. রাসেল (৩০), রোহিঙ্গা নাগরিক নুর মোহাম্মদ (৩৫) বলে জানা গেছে।

ফেরত আসা জেলে মহেশখালীর বাসিন্দা জেলে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গপোসাগরে মাছ শিকারের সময় আরাকান আর্মি আমাদের ধরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমাদের মংডু জেলে এনে রাখা হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস জেলে রাখার পর আজকে আমাদের ফেরত দিয়েছেন।

ফেরত আসা জেলেদের গ্রহণ করতে শনিবার দুপুরে টেকনাফ বিজিবির একটি দল ট্রানজিট ঘাটে উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ফেরত আসা জেলেরা দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার পর দেশে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর