chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকাসহ পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ হাজার ৬৭৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মধ্যে একাংশ মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং বাকিগুলো পাচারকারীরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে বহন করছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর রেজুখাল চেকপোস্ট ও বাইশফাঁড়ি বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, প্রথম অভিযানে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে বাইশফাঁড়ি বিওপি’র বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস এর ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮ হাজার ৭৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেজুখাল চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালায় বিজিবির সদস্যরা। এ সময় বিজিবির প্রশিক্ষিত ডগ ‘জর্জ’-এর সহায়তায় দুই যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। পরে তাদের প্যান্টের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নুর আলম শিকদার (২৯) এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রিজাউল শেখ (৩৮)। এ সময় ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

অপরদিকে একই সময় রেজুখাল চেকপোস্টে আরেকটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে উখিয়ার বাসিন্দা ছৈলামং চাকমা (৪০) নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তার শরীর থেকে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরেকটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও জব্দ মালামালসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ ৩৪ বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। এসব অভিযানের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর