chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

রাউজানে ৫০ টাকায় ডায়াবেটিস চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের রাউজানে ডায়াবেটিস সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী ‘ডায়াবেটিক সেবা’ ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনীর রহমান প্লাজার তৃতীয় তলায় পিউর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের যাত্রা হয়।

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ও ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসক ডা. কল্লোল বড়ুয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচি এখন থেকে সপ্তাহে প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলবে।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্যাম্পে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয়, চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যপরামর্শের পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনদের অংশগ্রহণে এক ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে ডায়াবেটিসের লক্ষণ, ঝুঁকি, জটিলতা, প্রতিরোধব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ওষুধ সেবন, ইনসুলিন ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি এবং জীবনযাপনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রথম কার্যদিবসে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ১০৬ জন রোগী ও স্বজন সেমিনারে অংশ নেন। পরে তারা ন্যূনতম ৫০ টাকা ফি প্রদান করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রাঙ্গুনিয়া বেতাগীর আয়েশা আক্তার, পোমরার আবুল কালাম, রাউজানের কদলপুরে স্বপ্না দাশগুপ্ত, পূর্বগুজরা অপর্ণা বড়ুয়াসহ কয়েকজন রোগী জানান, স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডায়াবেটিস বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ইনসুলিন ব্যবহার ও জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা তাদের সচেতন হতে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করেন। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক বলেও অভিহিত করেন তারা।

ডা. কল্লোল বড়ুয়া বলেন, ডায়াবেটিস এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। অনেক মানুষ সচেতনতার অভাবে জটিলতায় ভুগছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এবং এলাকার সন্তান হিসেবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, শুধু ওষুধ সেবন নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার মাধ্যমেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই প্রতি সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রোগীর স্বজন ও স্থানীয়ের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ডায়াবেটিস বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর