গরমে বাড়ছে টাইফয়েডের ঝুঁকি, কী করবেন?
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা ও দূষিত খাবার–পানির কারণে এ সময় টাইফয়েডে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে টাইফয়েড মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনুর শারমিন জানান, সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েড হয়। দূষিত পানি, দুধ ও খাবারের মাধ্যমে এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। একই ধরনের আরেকটি রোগ প্যারাটাইফয়েড, যা সালমোনেলা প্যারাটাইফি জীবাণুর কারণে হয়ে থাকে।
টাইফয়েডে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, দুর্বলতা, বমি বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা ও ক্লান্তিও থাকে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, জ্বর দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণত রক্তের কালচারের মাধ্যমে টাইফয়েডের জীবাণু শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজনে আরও কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে।
টাইফয়েড শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। এ রোগে ওষুধ সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি মাত্রায় এবং দীর্ঘ সময় খেতে হতে পারে। জ্বর কমতে ও পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগে বলে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকেরা আরও বলেন, নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ভুল চিকিৎসা রোগকে জটিল করে তুলতে পারে।
টাইফয়েড প্রতিরোধে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার–পানির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে খোলা খাবার বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিকা নেওয়ার মাধ্যমেও টাইফয়েড প্রতিরোধ সম্ভব।
