লবণের বাড়তি দামে দিশেহারা চামড়া ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার লবণের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা। কোরবানির মৌসুম ঘিরে আতুরার ডিপোসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড়তে এবার লবণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যবসায়িক প্রস্তুতি শেষ হলেও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
আড়তদাররা জানান, কোরবানি উপলক্ষে চামড়া সংরক্ষণের মূল উপকরণ লবণের দাম মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে। রমজান মাসে ৭৪ কেজির একটি লবণের বস্তা যেখানে ৫৮০ টাকা ছিল, এখন সেটি ৭৫০ টাকা ছুঁয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, কোরবানির সময় লবণের দাম আরও বাড়বে, যা তাদের ক্ষতির মুখে ফেলবে।
চট্টগ্রামের আতুরার ডিপোতে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। তবে লবণের বাড়তি দামে আড়তদাররা উদ্বিগ্ন।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, লবণের দাম নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই, যার ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় আছেন। সরকার যদি আড়তদারদের জন্য ব্যাংক লোন বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করত, তাহলে লবণের দাম বাড়লেও আমাদের ব্যবসার টেকসইতা নিশ্চিত হতো।
চামড়া ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে একসময় চট্টগ্রামে দেড় ডজন ট্যানারি ছিল। কিন্তু পরিবেশগত ও আর্থিক সমস্যায় প্রায় সবই বন্ধ হয়ে যায়। এখন টিকে আছে শুধু রিফ লেদার ট্যানারি। আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু দাম নিয়ে তাদের হাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
চট্টগ্রামেই বৃহত্তর লবণ আড়তদার সমিতির সদস্য ১১২ জন, কিন্তু ২৫০টির মতো আড়ত রয়েছে। চাষিদের উৎপাদন খরচ বাড়লেও, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা লাভের আশা করতে পারছেন না।
চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের বাড়তি দামের কথা জানালেও কৃষকরা ন্যার্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। লবণের উৎপাদন মূল্য না পাওয়াতে দিশেহারা অবস্থায় আছেন কৃষকরা।
কক্সবাজারের লবণ চাষি আবদুল করিম বলেন, লবণ উৎপাদন খরচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। কিন্তু বিক্রি করতে হয় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে। মাঝখানে যারা আছেন তারা লাভ করেন।চাষীরা মূল্য পায় না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার বিশাল বাজারের স্থিতিশীলতা আনতে হলে লবণের দাম ঠিক রাখতে হবে। বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে না পারলে, আড়তদার, খামারিরা—সবারই লোকসান হবে। চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে এখন বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি তদারকি প্রয়োজন।
ফরিদা|চখ
