chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

শিশুর হাতে মোবাইল দিয়ে খাওয়ানো, হতে পারে স্বাস্থ্যহানি

বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারেই দেখা যায়, শিশুকে খাবার খাওয়াতে হলে মোবাইলে কার্টুন বা ভিডিও চালিয়ে দিতে হয়। মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে একের পর এক খাবার খেয়ে নিচ্ছে শিশু এ দৃশ্য এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস সাময়িকভাবে বাবা-মায়ের কাজ সহজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিয়মিত মোবাইল দেখে খাওয়ার ফলে শিশুর মধ্যে এক ধরনের শর্তাধীন আচরণ তৈরি হয়। অর্থাৎ তার মস্তিষ্কে এমন ধারণা গড়ে ওঠে যে, খাবারের সঙ্গে বিনোদনও থাকতে হবে। ফলে মোবাইল ছাড়া খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং ধীরে ধীরে এটি নির্ভরশীলতায় রূপ নেয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুর ভাষা শেখা, মনোযোগ ধরে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতিও দুর্বল হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না কখন তার পেট ভরেছে, বরং ভিডিও দেখতেই ব্যস্ত থাকে।

 

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ডুবে থাকার কারণে শারীরিক নড়াচড়া কমে যায়, যা ভবিষ্যতে স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত উত্তেজনামূলক ভিডিও শিশুদের আচরণেও প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে রাগ, বিরক্তি, অস্থিরতা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা উচিত। আর দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর এই অভ্যাস হঠাৎ করে বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমানো উচিত। প্রতিদিন কিছুটা সময় কমিয়ে এনে তাকে স্ক্রিন ছাড়া খাওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে গল্প বলা, গান শোনানো কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার মতো বিকল্প উপায়ে শিশুকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

 

খাওয়ার সময় শিশুকে ছোটখাটো কাজে যুক্ত করাও উপকারী হতে পারে। যেমন—নিজের প্লেট সাজানো বা নিজ হাতে খাবার খাওয়ার সুযোগ দিলে তার আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি বাবা-মাকেও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে শেখে। তাই পরিবারের সদস্যরা যদি খাওয়ার সময় মোবাইল ব্যবহার করেন, তবে শিশুও সেটিই স্বাভাবিক বলে মনে করবে।

 

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জোর করে মোবাইল কেড়ে নিলে শিশু আরও বিরূপ আচরণ করতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে ইতিবাচকভাবে তাকে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। ছোট ছোট সাফল্যের প্রশংসা শিশুর আচরণ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শিশুর খাবারের সঙ্গে মোবাইলের সম্পর্ক যত দ্রুত কমানো যায়, ততই ভালো। কারণ এটি শুধু একটি অভ্যাসের বিষয় নয়; বরং শিশুর মানসিক বিকাশ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ভবিষ্যৎ আচরণগত বিকাশের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

 

মুন্নি/চখ