শিশুর হঠাৎ জ্বর, আতঙ্ক নয় সচেতনতা জরুরি
শিশুর হঠাৎ জ্বর হলে অধিকাংশ বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের মতে, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয় বরং শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জ্বরকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। বিশেষ করে তিন মাসের কম বয়সী শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরিস্থিতি গুরুতর মনে হলে শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুর জ্বরের সময় কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে খিটখিটে আচরণ, অস্বস্তিবোধ, শরীর গরম হয়ে যাওয়া, মুখ লাল হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
জ্বরের সময় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বেশি করে তরল খাবার বা পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে। তবে শিশু বা কিশোরদের ক্ষেত্রে এসপিরিন না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এটি বিরল কিন্তু গুরুতর ‘রেই সিনড্রোম’-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া শিশুকে হালকা পোশাক পরানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং জোর করে খাবার না খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বর কমানোর জন্য ঠান্ডা পানিতে গোসল বা রাবিং এলকোহল ব্যবহার না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে, বারবার বমি বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হলে, প্রস্রাব কমে গেলে, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা টানা পাঁচ দিনের বেশি জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শিশুদের মাঝে মাঝেই জ্বর হতে পারে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কয়েক দিনের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাই জ্বরের সময় শিশুকে আরামদায়ক পরিবেশে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মুন্নি/চখ
