chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কালবৈশাখীর প্রভাবে ভারী বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে

বৃষ্টি হলেই ডুবছে চট্টগ্রাম, হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেও মিলছে না স্বস্তি

মঙ্গলবার দিনের শুরু থেকেই বৃষ্টিতে ভিজেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সকাল থেকে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, আর দুপুরের দিকে টানা ভারী বর্ষণে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সকালে বৃষ্টি শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও আগ্রাবাদসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানিতে ডুবে যায় রাস্তা। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়।

 

দুপুর সাড়ে ১২টার পর আবারও টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ভারী বর্ষণ হয়। এতে আগের জমে থাকা পানির ওপর নতুন করে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় বৃষ্টি থামার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি নামেনি। কোথাও যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে নোংরা পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বছরের পর বছর। খাল-নালা ভরাট, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টিপাত মূলত কালবৈশাখী প্রভাবের অংশ। আগামী কয়েক দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে, যা নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় এক দশক ধরে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। খাল পুনঃখনন, নালা সম্প্রসারণ, স্লুইসগেট ও পাম্পহাউস নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের জন্য হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রকল্প এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক স্থানে খালের কাজ চলমান থাকায় মাটি ফেলে রাখা এবং ভারী যন্ত্রপাতি রাখার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

 

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বর্ষা সামনে রেখে খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরীর ৩৬টি খালের সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

 

তবে নগরবাসীর অভিযোগ, এসব উদ্যোগ বাস্তবসম্মত ও টেকসই না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং গণপরিবহন চলাচল কমে যায়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি কিছু পরিবহন চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

 

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত হবে।

মুন্নি/চখ

এই বিভাগের আরও খবর