সিরিজের ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ
সাগরিকায় নিউজিল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিল টাইগাররা
বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের সাগরিকায় ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ১৮২ রান তুলেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে এসে হৃদররা সেটি হেসে খেলেই জয় তুলে নিয়েছে। ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানের জয় পায় টাইগাররা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ১১ রানে রান-আউট হয়ে ফিরে যান ওপেনার টিম রবিনসন। তবে এরপরই ম্যাচে গতি এনে দেন কাটেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন, আর ক্লেভার মাত্র ২৮ বলেই তুলে নেন অর্ধশতক। এই দুই ব্যাটারই বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের শিকার হন।
প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান তুলে নেওয়া কিউইরা মাঝের ওভারগুলোতে কিছুটা ধীর হয়ে যায়। বাংলাদেশের স্পিনাররা দারুণভাবে রান আটকে দেন, ফলে পরের পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ৩০ রান।
এরপর ১৬.৩ ওভারে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫১ রান, কিন্তু আলোর স্বল্পতায় খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। খেলা আবার শুরু হলে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন নিক কেলি, তিনি ২৭ বলে ৩৯ রান করেন। শেষদিকে জেমস ক্লার্কসন ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান যোগ করে দলকে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে পেসাররা বেশ খরুচে ছিলেন। শরিফুল ইসলাম ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন, তানজিম সাকিব ৪০ রান খরচ করে একটি উইকেট পান, আর রিপন মণ্ডল উইকেটশূন্য থেকে দেন ৩৯ রান। স্পিন বিভাগে শেখ মেহেদী ১টি এবং রিশাদ হোসেন ২টি উইকেট তুলে নেন, যা কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ দেখায়। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে দলীয় স্কোর দ্রুত ৪৪ রানে পৌঁছে যায়। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে ন্যাথান স্মিথের বলে ডিপ মিড উইকেটে বেভন জ্যাকবসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাইফ ফিরে যান। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১৭ রান।
সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে লিটন দাস তানজিদকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তবে নবম ওভারের পঞ্চম বলে ইশ সোধির মিডল স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বলটি পুল করতে গিয়ে লিটন মিস করেন। বল সরাসরি মিডল স্টাম্পে আঘাত করে। ১৫ বলে ২১ রান (২ চার ও ১ ছক্কা) করে তিনি সাজঘরে ফিরলেন।
লিটনের আউটের পর উইকেটে আসেন তাওহীদ হৃদয়, তাকে নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান তানজিদ। তবে উইকেটে থিতু হয়ে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। দলীয় ৭৭ রানে ২৫ বলে ২০ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।
চাপ সামলে হৃদয়-ইমনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এই দুই জনের ফিফটি রানের জুটিতে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে এগোচ্ছে। তবে দলীয় ১৩৪ রানে ইমন ২৮ করে বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি।
চখ/ককন
