chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কক্সবাজারে মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ‘আতঙ্কের সড়ক’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন।

বুধবার ভোরে অপহরণের শিকার হওয়ার পর একই দিন রাতেই তিনি ফিরে আসেন। তবে তার মুক্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

স্বজনদের দাবি, ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঈদগাঁও থেকে নিজ বাড়ি ঈদগড়ে যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রুস্তম আলীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ি বনে নিয়ে যায়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী জানান, দিনভর দেনদরবারের পর অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা থেকে নেমে ৮ লাখ টাকায় রাজি হয়। রাতে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের স্বপ্নতরী এলাকার একটি নির্ধারিত স্থানে তিনি নিজেই নগদ ৮ লাখ টাকা দিয়ে ভাতিজাকে ছাড়িয়ে আনেন বলে দাবি করেন।

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কাশেমও জানান, মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয়।

তবে পুলিশ এ দাবি অস্বীকার করেছে। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হয় এবং দীর্ঘ সময়ের অভিযানের একপর্যায়ে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মুক্তিপণের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলেও তিনি জানান।

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় টানা অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রুস্তম আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি চেষ্টা, চুরি, মারামারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর