রাঙ্গামাটিতে পূর্বের দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল
সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে এখনো আগের দামে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন মালিকদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মজুত থাকা জ্বালানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন মালিকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে বলা হয়, নতুন দামে বিক্রি শুরুর আগে বিদ্যমান মজুত জ্বালানি আগের দামে বিক্রি করা হবে, যাতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ না পড়ে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাঙ্গামাটিতে সপ্তাহে তিন দিন ডিজেল এবং তিন দিন অকটেন বিক্রি করা হয়। সে অনুযায়ী রোববার বিভিন্ন পাম্পে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি দেখা গেছে। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুখালী এলাকা থেকে আসা কৃষক ধনঞ্জয় কুমার চাকমা বলেন, “তেলের দাম বাড়লে কৃষিকাজের খরচও বেড়ে যাবে। তবে এখন আগের দামে তেল পাওয়া কিছুটা স্বস্তির।”
মগবান এলাকা থেকে আসা কৃষক রবি ধন চাকমা বলেন, “ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে। আপাতত আগের দামে তেল পেয়ে ভালো লাগছে, তবে সামনে খরচ বাড়বে।”
রাঙ্গামাটি অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, “ডিজেল আগের দামে পাওয়ায় এখনো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। সরকারিভাবে ভাড়া বৃদ্ধির গেজেট না হওয়া পর্যন্ত আগের ভাড়াতেই লঞ্চ চলবে।”
রাজবাড়ী এলাকার মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. ইদ্রিস বলেন, “নীতিগতভাবে আমরা মজুত থাকা তেল আগের দামে বিক্রি করছি। কৃত্রিম সংকট এড়াতে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।”
পাম্পটির দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার শান্তুনু খীসা জানান, নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া কিংবা অবৈধ মজুত ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, “পাম্পগুলো নতুন দামে বিক্রি করতে চাইলেও আমরা আলোচনার মাধ্যমে মজুত তেল পুরোনো দামে বিক্রির বিষয়ে একমত হয়েছি। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”
মজুত শেষ হওয়ার পর নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাসু/চখ
