chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চসিক নির্বাচন : মনজুর আলমই মূল ফ্যাক্টর !

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ-র সঙ্গে তার আকস্মিক সাক্ষাৎ এখন নগর রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয়। সবার মুখে মুখে এখন, আসন্ন নির্বাচনে সমীকরণ গঠনে ‘মূল ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারেন মনজুর আলম।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকায় নিজ বাসভবনে হাসনাত আব্দুল্লাহকে আতিথ্য দেন মনজুর আলম। তবে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। স্থানীয় কিছু তরুণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাকে ঘিরে রাখেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যদিও উভয় পক্ষই সাক্ষাৎকে ‘সৌজন্য’ বলে উল্লেখ করেছে, তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি। বরং অনেকেই মনে করছেন, চসিক নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও নতুন জোটের সমীকরণ নিয়েই এই যোগাযোগের সূত্রপাত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোহাম্মদ মনজুর আলম এমন একজন ব্যক্তি যিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের সমর্থনে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। পরে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়া। আবার পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি—এই বহুমাত্রিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

২০১৫ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের পর কিছুটা নীরব থাকলেও পুরোপুরি রাজনীতির বাইরে যাননি তিনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার মধ্য দিয়ে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গত রমজানে এনসিপির ইফতার মাহফিলে তার সৌজন্যে পানি সরবরাহের বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এবার সরাসরি সাক্ষাৎ সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, আমি যদি নির্বাচন করি, সেটা গোপনে করার সুযোগ নেই। আজকের সাক্ষাৎ ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য। তিনি চট্টগ্রামে এসে আমাকে ফোন দিলে আমি দাওয়াত দিয়েছি, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেছি।
অন্যদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ-ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা। আমি সেখানে চা খেতে গিয়েছিলাম।

এনসিপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থিতা বা নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলের মতে, চসিক নির্বাচন সামনে রেখে বড় দলগুলোর পাশাপাশি নতুন শক্তিগুলোর সক্রিয়তা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে মোহাম্মদ মনজুর আলম আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। তার অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, প্রকাশ্যে যতই ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’বলা হোক না কেন, বাস্তবে এই ঘটনা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে । আর সেই সমীকরণের কেন্দ্রে রয়েছেন একসময়কার মেয়র—মনজুর আলম।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সর্বশেষ নির্বাচন ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রেজাউল করিমকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা করেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। আদালতের রায়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর