chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ক্রুড সংকট: ইস্টার্ন রিফাইনারির তেল পরিশোধন বন্ধ

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অপরিশোধিত (ক্রুড) তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, উৎপাদন পুনরায় চালুর জন্য কর্তৃপক্ষ আগামী মে মাসের শুরুতে নতুন আমদানির দিকে তাকিয়ে আছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমছিল। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, উপলব্ধ সব অপরিশোধিত তেলের উৎস শেষ হওয়ার পর শোধনাগারটি সোমবার বিকালে (১৩ এপ্রিল) শেষ প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (নির্মাণ ও প্রকল্প) আহমদ ফজলে রাব্বি বলেন, “অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে গত রবিবার রাত থেকে শোধনাগারটি বন্ধ রয়েছে।”

উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টায় মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর পাইপলাইনে আটকে থাকা প্রায় ৫,০০০ টন অবশিষ্ট ক্রুড ব্যবহার করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। এছাড়া সংরক্ষণ ট্যাংকের তলায় জমে থাকা অব্যবহৃত তেল উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটের কারণে শোধনাগারটি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেনি।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৪,৫০০ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে ইস্টার্ন রিফাইনারি। তবে চলমান ঘাটতির কারণে গত এক মাস ধরে উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। মার্চের শুরুতে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত ২,০০০ টনের নিচে নেমে আসে। ফলে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

এই অচলাবস্থা সত্ত্বেও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত মজুতের কথা উল্লেখ করেছেন। দেশের জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডিজেল এবং ক্রুড রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের জন্য সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়।

বর্তমান সংকটের জন্য মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড আমদানি ব্যাহত করেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের একটি চালান এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ আত্মবিশ্বাসী যে, নতুন চালানটি পাওয়ার পরপরই শোধনাগারের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। যদিও আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চলছে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর