হাসপাতালে চাঁদা দাবি, তদন্তে প্রশাসন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত একটি বিশেষায়িত কিডনি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। মানবিক চিকিৎসাসেবার জন্য সুপরিচিত অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
ডা. কামরুল ইসলাম রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি প্রতিস্থাপনসহ জটিল চিকিৎসায় বিনা পারিশ্রমিকে হাজারো রোগীকে সেবা দিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগে বলা হয়, শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার একটি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মো. মঈন উদ্দিন মঈন নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। বিষয়টি ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেয় এবং থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে উপস্থিত হন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
নেতারা জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা হয় না। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে ডা. কামরুল ইসলাম কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার চিকিৎসা সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্য এবং মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননাও পেয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে একটি চক্র হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম ও টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নেয় বলে জানা যায়।
এদিকে, ঘটনাটির একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালের ভেতরে কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করতে এবং নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয় দিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুন্নি/চখ
