সংরক্ষিত নারী আসন
চট্টগ্রামে বিএনপির নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দৌড় জোরদার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দলটির একাধিক নারী নেত্রী ইতোমধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে অতীতে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা অনেক নেত্রী এবার সংরক্ষিত আসনের দিকে ঝুঁকছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সাধারণ আসনে মনোনয়ন না পেলেও তারা প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। সেই ত্যাগ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মূল্যায়ন হিসেবে এবার এমপি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে অন্তত এক ডজন নেত্রী মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান নিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ ও তদবির চালাচ্ছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, মোসাম্মৎ শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ফাতেমা বাদশা, জেলি চৌধুরী, মেহেরুন্নেছা নার্গিস এবং সুলতানা পারভীন।
সূত্র মতে, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পেতে পারে ৩৬টি আসন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ২ থেকে ৩ জন নেত্রী মনোনয়ন পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও আলোচিত নেত্রীদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা অন্যতম। তিনি অতীতে কারাবরণসহ নানা রাজনৈতিক চাপে থেকেও দলের পক্ষে কাজ করেছেন এবং দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীরও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন সংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় মোসাম্মৎ শাহনেওয়াজ চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি মনে করেন, দল তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করবে।
দলের ভেতরে আরও আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা বাদশা, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন্নেছা নার্গিস, সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম এবং জাসাসের নেত্রী নাজমা সাঈদ।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, চট্টগ্রামে আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নারী নেত্রী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলীয় অঙ্গনে বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা।
