chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

পটিয়ায় একটি সেতু দূর করতে পারে তিন উপজেলার ভোগান্তি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নে অবস্থিত মুরালী খালের মোহনায় একটি সেতুই আনোয়ারা,কর্ণফুলী ও পটিয়া উপজেলার সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি দূর করতে পারে। তিন উপজেলার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খালটির দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা, পশ্চিমে কর্ণফুলী এবং উত্তরে পটিয়া অবস্থিত। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ পথ দিয়ে প্রতিদিন কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন -এ কর্মরত অসংখ্য গার্মেন্টস কর্মী পারাপার হয়। খালের উভয় পাশে সড়ক থাকলেও মাঝখানে সেতু না থাকায় যাত্রীদের নৌকা বা অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং কর্মজীবী মানুষের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

শুধু কর্মজীবী মানুষই নয়, শিক্ষার্থীরাও এ দুর্ভোগের শিকার। আনোয়ারা অংশ থেকে শিক্ষার্থীরা খাল পার হয়ে পটিয়া কলেজে যাতায়াত করে, আবার অনেক শিক্ষার্থী আনোয়ারা ইপিজেড সংলগ্ন এলাকা, চৌমুহনী বাজার ও কৈনপুরা স্কুলে যেতে এই পথ ব্যবহার করে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের পারাপার করতে হয় বলে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে এখানে একটি সেতু ছিল, যা খাল প্রশস্ত হওয়ার কারণে ভেঙে যায়। একসময় লঞ্চ চলাচলের যুগে আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এলাকার মানুষ সাঙ্গু নদী হয়ে পেশকার হাটে আসতেন এবং সেখান থেকে নদীপথে শহরে যাতায়াত করতেন। পেশকার হাট এলাকাটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন এলাকার লঞ্চ অবস্থান করতো। সময়ের পরিবর্তনে নৌপথের গুরুত্ব কমলেও সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বহুগুণ, কিন্তু সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, মুরালী খালের এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে কর্ণফুলী, আনোয়ারা ও পটিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এতে করে (KEPZ)এর কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের সময় ও ব্যয় কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করুক। একটি সেতু বদলে দিতে পারে তিন উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ যোগাযোগের অধিকার।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, মুরালি খালের জিরি ইউনিয়নের অংশে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সেতু নির্মাণ করা গেলে তিন উপজেলার লোকের যাতায়াতের সুবিধাসহ ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার ঘটবে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর