chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

প্রশাসনের নীরবতায় উদ্বেগ, তিন ট্রাক মাটি জব্দ

থামাবে কে পাহাড় কাটা? সীতাকুণ্ডে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় থামছেই না অবৈধ পাহাড় কাটা। রাতের আঁধারে চলছে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট ও কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিলে পাহাড় কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বললেই পরিবেশবাদী ও সচেতন মানুষকে হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার, এমনকি দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা মামলাও।

ভূমিধসের শঙ্কা বাড়ছে

 

অতিরিক্ত পাহাড় কাটার ফলে এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। অতীতে ২০১৬ ও ২০১৯ সালে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাটা পাহাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি, সড়ক ও জনজীবনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

 

এছাড়া পাহাড় ধ্বংসের ফলে গাছপালা, পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

 

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

 

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক সড়কের পাশে পাহাড় কেটে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ দেয়ালঘেরা এলাকায় পাহাড়ি ছড়া ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

 

আরও ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে একটি সেমিপাকা ওয়েটিং রুম। আশপাশে একাধিক পাহাড় আংশিক কেটে ফেলা হয়েছে এবং সেসব পাহাড়ের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পাশের ছড়া।

 

এছাড়া একটি ইটভাটা স্থাপনের জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে এবং সেখানে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত হচ্ছে ভারী যন্ত্রপাতি।

 

অভিযোগ অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

 

একটি ইটভাটার ব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখানে কোনো পাহাড় কাটা হচ্ছে না, সাংবাদিকরা ভুল তথ্য দিচ্ছেন।”

 

ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

 

সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শত বছর ধরে বিদ্যমান এসব পাহাড়ের কিছু অংশ ‘ভূমি’ হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮ একর জায়গা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অনিয়মের মাধ্যমে পাহাড় শ্রেণির জমিকে ভূমিতে রূপান্তর করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাসেমের অভিযোগ, “ইটভাটার জন্যই পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে।”

 

প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড়ের গাছপালা বৃষ্টির পানি ধারণ করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির উৎস রক্ষা করে। পাহাড় কেটে ফেললে ঝর্ণা ও ছড়াগুলো শুকিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

পুলিশের অভিযান গ্রেপ্তার

 

উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির সময় তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সীতাকুণ্ড মডেল থানা।

 

এছাড়া ভাটিয়ারী এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থান

 

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, “পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ অবৈধভাবে এ কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

একই দপ্তরের একজন পরিদর্শক জানান, ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ ও একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

হয়রানির অভিযোগ স্থানীয়দের

এই বিভাগের আরও খবর