চবিতে গোলাম আযমের ছবি লাগিয়ে লেখা ‘আমাকে জুতা মারুন’
যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি সম্বলিত পোস্টার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো হয়েছে; সেখানে জুতার চিহ্ন এঁকে নিচে লেখা হয়েছে- ‘আমাকে জুতা মারুন।’
সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ওয়াশরুম এবং কলা ঝুপড়ির দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়।
হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে এসব পোস্টার নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ কাজকে ‘উসকানিমূলক’ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “যারা এ কাজ করেছে তারা চাচ্ছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হোক। তারা আমাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে। আমি মনে করি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত থাকা দরকার।”
তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-চাকসুর এজিএস ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “গোলাম আজম বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন ঘৃণিত ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কৃতকর্মের কারণে অনেকেরই তার উপর ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকে হয়ত কেউ এ কাজ করেছে। আমি এটাকে আহামরি কোনো পাপ হিসেবে দেখছি না।”
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২০১৩ সালের ১৫ জুলাই ওই রায়ে গোলাম আযমকে ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, হত্যাকাণ্ডে সায় ও সহযোগিতা দেওয়ার’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে বলা হয়, অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি পাওনা হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ৯১ বছর বয়সী এই আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাজাভোগের মধ্যেই ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মারা যান গোলাম আযম।
ট্রাইব্যুনালে তার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে শিবির নেতা মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “এটি মীমাংসিত একটি বিষয়। বিচার প্রক্রিয়া কারা পরিচালনা করেছে, কারা অপরাধী সাব্যস্ত করেছে এবং কারা রায় দিয়েছে, এসব সবার জানা। এখন তারা কোথায় আছে, সেটিও সবারই জানা।যারা ফ্যাসিস্টের সহযোগী, যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্টকে সার্ভ করে গেছে এবং যারা শাহবাগপন্থায় বিশ্বাসী, আমি মনে করি এসব কর্মকাণ্ড তাদেরই। এখন তাদেরকে ফুয়েল যোগাচ্ছে নতুন ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোকজন। সম্ভবত একটি পক্ষ এসব কাজ করছে এবং আরেকটি পক্ষ তা প্রচার করছে। যারা প্রচার করছে, তারা হয়ত কোনো ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় রয়েছে। তারা চাচ্ছে ক্যাম্পাসে অপ্রত্যাশিত কোন কিছু ঘটুক। তবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের আছে। সবাই তাদের নিজেদের মতামত প্রকাশ করবে। নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রকাশ করবে। সেই জায়গা থেকে যদি কোনো ভাই মনে করেন, তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এরকম, তাহলে তারা তাদের মত কাজ করবেন। ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের নিজ নিজ আদর্শ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবে। এরপর শিক্ষার্থীরাই তাদের বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে সেখান থেকে নিজেদের জন্য উপযুক্তটিকে বেছে নেবে।”
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সহরাওয়ার্দী বলেন, “দুষ্কৃতকারীরা গোলাম আযমের পোস্টার টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ সক্রিয় আছি। ছাত্রসংগঠনগুলোকে ক্ষেপিয়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম করা হচ্ছে। আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, সম্প্রীতি বজায় রেখে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি অব্যাহত রাখুন।”
চখ/ককন
