chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মঙ্গল বা আনন্দ নয়, নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা: সংস্কৃতি মন্ত্রী

পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম বিতর্কের অবসান ঘটাতে এটিকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হিসেবে নতুন পরিচয় দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নাম (শোভাযাত্রা) নিয়ে একটা বিতর্ক, আমরা এই বিতর্কের অবসান করতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- এটাকে আনন্দ শোভাযাত্রাও বলব না, মঙ্গল শোভাযাত্রাও বলব না।’

‘শোভাযাত্রা হবে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে, এখানে সব সংস্কৃতির প্রদর্শন থাকবে। যার যার মতো ঢোল-বাদ্য, পোশাক-আশাক নিয়ে একটা আনন্দঘন শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রার নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী আনন্দ- যা কিছু সবকিছুতে আমরা বৈশাখকে হাইলাইট করতে চাই, এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’

পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির সঙ্গে রোববার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

‘পহেলা বৈশাখ নিয়ে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখ, ১৯৮৯ সালের এরশাদের আমলে এ শোভাযাত্রাটি “আনন্দ শোভাযাত্রা” নামে চালু হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর তারা “আনন্দ” বাদ দিয়ে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” করে। অন্তর্বর্তী সরকার এসে আবার এটার নাম “আনন্দ শোভাযাত্রা” করে’, দাবি করেন নিতাই রায় চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন কেউ বলছে শোভাযাত্রার নাম আনন্দই থাকতে হবে, আবার কেউ বলছে মঙ্গল হতে হবে। কিন্ত আমরা বিভাজন চাই না।’

এ সরকারের দায়বদ্ধতা জনগণ, জাতি ও দেশের কাছে। আমরা চাই অতীতের যা কিছু গ্লানি সেটা নিয়ে তো আমরা আছিই, সেটা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু, আমরা আমাদের দেশের সমাজে বিভাজন চাই না। মানুষের মাঝে অনৈক্য, সংঘাত এগুলো আমরা চাই না। আমরা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য চাই। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন আদর্শের বিভিন্ন ভাবনার লোক থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের লোকও থাকবে। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য’, যোগ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী।

নাম বৈশাখী শোভাযাত্রা করায় ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন আসতে পারে কিনা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী পালটা প্রশ্নে বলেন, ‘আমরা কি ইউনেস্কো দ্বারা পরিচালিত সরকার কিংবা দেশ? যখন নাম আনন্দ শোভাযাত্রা ছিল তখনও ইউনেস্কো ছিল, যখন মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল তখনও ইউনেস্কো ছিল- আমরা তাদেরকে জানিয়ে দেব, আমাদের দেশে এখন থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে, এটাই আমাদের ঐতিহ্য।’

শোভাযাত্রার নামে ইউনেস্কো কোনো স্বীকৃতি দেয়নি, তারা দিয়েছে বৈশাখের উৎসবের ওপরে, তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। আমাদের সাংস্কৃতি কি শোভাযাত্রা শুধু? নানান ব্যাপার আছে’, বলেন মন্ত্রী।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর