রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি সংকট, লাইসেন্স–হেলমেট থাকলেই মিলছে তেল
জ্বালানি তীব্র সংকটের কারণে রাঙ্গামাটি শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করে অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
বুধবার শহরের বিভিন্ন পাম্পে এ নিয়ম কার্যকর করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিও দেখা গেছে।
শহরের চরাটি এলাকার তিনটি পেট্রোল পাম্পে সীমিত পরিমাণে অকটেন সরবরাহ করা হয়। এতে সকাল থেকেই দীর্ঘ যানজট ও জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও চাহিদামতো জ্বালানি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
কল্যাণপুর ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি নিতে হলে কাগজপত্র ও হেলমেট যাচাই বাধ্যতামূলকভাবে করা হচ্ছে। অনেকে এ উদ্যোগকে শৃঙ্খলা ফেরানোর পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও সীমিত জ্বালানি বরাদ্দে ভোগান্তি কমছে না।
পাম্পে তেল নিতে আসা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, “কাগজ দেখে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগে জানালে বিশৃঙ্খলা হতো না। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ৩০০ টাকার তেল পাচ্ছি, চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।”

মোটরসাইকেল চালক সুরেশ চাকমা বলেন, “দীর্ঘ সময় লাইনে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। একদিন পর আবার আসতে হবে, আবার লাইন ধরতে হবে।”
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপরিবহন খাতেও। কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীবাহী লঞ্চ চললেও নিয়মিত জ্বালানি না পাওয়ায় যেকোনো সময় সার্ভিস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্পিডবোট মালিক আব্দুল কুদ্দুছ জানান, দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বালানির অভাবে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা নৌপথ নির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকট জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তাসু/চখ
