chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বন্দরনগরী, নেই চিরচেনা কর্মব্যস্ততা

এবার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় মানুষ আগেভাগেই শহর ছাড়তে শুরু করেছেন। বিশেষ করে শনি ও রোববার থেকে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে বাস ও রেল স্টেশনে। সোমবার শবে কদরের পর থেকে এই ভিড় আরও বেড়ে যায়। সরকার ঘোষিত টানা সাত দিনের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নগর ছেড়েছে সাধারণ মানুষ। তাই নগরের চিরচেনা যানজট নেই, অলিগলিতেও নেমেছে নীরবতা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এবার ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ চট্টগ্রাম নগর ছেড়ে যাবেন বলে ধারণা করা হয়েছে।

শেষ মুহুর্তে অনেকে পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে ছুটে চলছেন আপন ঠিকানায়, তাদের কেউ কেউ বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও তুলছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দা সুপ্রিয় দাশ দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন, ‘মইজ্জারটেক হতে কাঞ্চনা ফুলতলা পর্যন্ত সিএনজির রেগুলার ভাড়া ১০০টাকা, এখন জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০টাকা।এতে করে আমরা চরম ভোগান্তিতে পরছি। প্রতি ঈদেই এমন চিত্রই চোখে পরে, দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের এসব ব্যপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী।’

নগরে এখন গণপরিবহন ও প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যাও হাতেগোনা। তবে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চষে বেড়াচ্ছে সড়ক-অলিগলি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হওয়া লোকজন এসব বাহনকেই বেছে নিচ্ছেন। যানজট না থাকায় দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে।

এদিকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোর চিত্রও প্রায় অভিন্ন। ফ্লাইওভারগুলোতে নেই গাড়ির চাপ। ফাঁকা এই নগরে স্বস্তি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। একইভাবে চকবাজার, আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট এলাকায়ও দেখা গেছে অভিন্ন চিত্র। তবে বিভিন্ন গণপরিবহনে এখনও ‘ঈদ বকশিশ- এর নামে বাড়তি ভাড়া আদায় চলছে।

ষোলশহর এলাকার বাদশ মিয়া দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন, ‘এবার বাড়ি যাওয়া হয়নি। আমার বাড়ি নরসিংদী। শহরে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করবো এবার। নগরের রাস্তাঘাট এখন পুরো ফাঁকা। অন্যসময় জনজট ও যানজটের কারণে রাস্তায় হাঁটাচলা যায় না। রাস্তা ফাঁকা থাকার সুযোগে সন্তানদের নিয়ে হাঁটতে বের হলাম। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ভালোই লাগছে।’

বাসচালক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চারদিকে অফিস-আদালত বন্ধ। আগের মতো যাত্রী নেই।তাই বাধ্য হয়ে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে আমাদের।’

নগরীর এমন ফাঁকা পরিস্থিতিতে চুরি-ডাকাতিসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে ১৯ দফা নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ হটলাইন নম্বর। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় সিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পাশাপাশি সিএমপির হটলাইন নম্বর ০১৩২০-০৫৭৯৯৮ ও ০১৩২০-০৫৭৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

চখ/ককন

এই বিভাগের আরও খবর