chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে বুকিং প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল

আর মাত্র কয়েকদিন পর ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে টানা ছুটি রয়েছে। আর পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর্যটক বরণে প্রস্তুত  হ্রদ পাহাড়, আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর রাঙ্গামাটি। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, প্রকৃতিপ্রেমী এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক স্বপ্নের নাম। পাহাড়, হ্রদ, ঝর্ণা আর পাহাড়ি সংস্কৃতির মিলনে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্বর্গ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা এমন একটি জেলা যেখানে পাহাড়, হ্রদ, ঝর্ণা আর মানুষের বৈচিত্র‍্যময় সংস্কৃতি মিলেমিশে এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে।

রাঙ্গামাটির পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলরাশি- প্রকৃতির এই মোহনীয় রূপ চিরকালই ভ্রমণপিপাসুদের টানে। তবে এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এই পর্যটন নগরীতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। দরজায় কড়া নাড়া ঈদকে বরণ করে নিতে কেবল সাধারণ মানুষই নয়, কোমর বেঁধে প্রস্তুত রাঙ্গামাটির পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, জেলার নামী-দামী হোটেল, মোটেল,রিসোর্ট ও হাউস বোট গুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে আগত পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে প্রস্তুত ট্যুরিস্ট পুলিশও। স্বাভাবিক সময়ে সবুজ পাহাড়, হ্রদের নীল জলরাশি প্রকৃতির এমন মোহনিয় রূপের টানে রাঙ্গামাটিতে ভীড় জমায় ভ্রমনপিপাসুরা। ছুটিতে সেই চাপ বেড়ে যায় বহুগুণ। জেলার সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে বাংলা ভূস্বর্গ খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে। এবারে ঈদও তার ব্যাতিক্রম নয়। সপ্তাহব্যপী এই ছুটির কারণে পর্যটকের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হবে বলে ধারণা করছে ব্যবসায়ীরা।

রাঙ্গামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। রাঙ্গামাটির ‘সিম্বল’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সংস্কার কাজ শেষে নতুন রঙের ছোঁয়া লেগেছে। হ্রদে ভ্রমণের জন্য বোটগুলোকে ঘষামাজা ও রঙ করে সারিবদ্ধভাবে ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতের পোশাকের দোকানগুলোতেও উঠেছে নতুন নতুন ডিজাইনের সংগ্রহ।

টুরিষ্ট বোট মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে লম্বা ছুটি, প্রচুর পর্যটক আসবে বলে আশা করছি। তাই বোটগুলো মেরামত করে আমরা এখন সময়ের অপেক্ষায় আছি।’

মাযারী দ্বীপ রিসোর্টের পরিচালক রিকো খীসা বলেন, শুধু আমাদের রিসোর্টই নয় জেলার অধিকাংশ রিসোর্ট প্রায় শতভাগ বুকিং হযে গেছে। আমরা এখন পর্যটকদেও বরণ করে নেয়ার অপেক্ষায় আছি।

কোমর তাঁতের দোকানী  ইসলাম বলেন, রমজান মাসটি আমাদের পর্যটন

শিল্পের ব্যবসায়ীদের জন্য কষ্টের মাস। পর্যাপ্ত পর্যটক না থাকায় ব্যবসা হয়নি। তবে ঈদের ছুটিতে সেটা পুষিয়ে নেই। আশা করছি এবার লম্বা বন্ধ আরও ভালো ব্যবসা করতে পারবো। তাই দোকানে প্রচুর নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক রেখেছি।

রাঙ্গামাটির নান্দনিক আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের পাশে অবস্থিত বার্গি লেক ভ্যালি রিসোর্টের মালিক সুমেধ চাকমা বলেন, আমাদের সবগুলো রিসোর্ট ২৯ মার্চ পর্যন্ত বুকিং হয়ে গিয়েছে। আশা করছি ঈদে ভালো ব্যবসা হবে। রোজার সময়ে পর্যটক ছিলো না বললে চলে। এতে অনেকটা আর্থিক ক্ষতির মুখে আমরা। আশা করছি সেটি পুষিয়ে নিতে পারবো।

রাইন্যাটুগুন ইকো রিসোটের মালিক ললিত চন্দ্র চাকমা বলেন এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রির্সোট প্রায় বুকিং হয়ে গেছে।

তবে ছুটির দিনগুলোতে অভিযোগ থাকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ে। বিশেষ করে হোটেল, খাবার দোকান ও ট্যুরিস্ট বোটগুলোতে। তবে এসব বিষয়ে নজর রাখার কথা জানান রাঙ্গামাটির ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙ্গামাটি জোনের উপ-পরিদর্শক মো. শাহ্ আলম বলেন, এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাঙামাটি  প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সকল স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি

আছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্টাইকিং ফোর্স থাকবে। এছাড়াও সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নজরদারি করবে। মোট কথা এই ছুটিতে পর্যটকরা নিরাপদে সকল স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন।

ঈদের এই ছুটিতে রাঙ্গামাটি জেলায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে, এমনটাই প্রত্যাশা খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

চখ/ককন

এই বিভাগের আরও খবর