ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী চট্টগ্রাম এখন পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত। দর্শনার্থী টানতে বিনোদন স্পটগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। ঈদকে ঘিরে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ধোয়া-মোছার পাশাপাশি বিভিন্ন রাইডে রং করে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড় ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে এবারও ঈদের ছুটিতে নগরীতে পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে হোটেল বুকিং, পর্যটন স্পট সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পর্যটকদের আনন্দ উপভোগের জন্য যে সব স্পট রয়েছে সেগুলো হলো‑ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আনোয়ারা পারকি সৈকত, কনকর্ড ফয়স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক, চট্টগ্রাম মেরিন ড্রাইভ সড়ক, টোল রোড, সি আর বি, ডিসি ফ্লাওয়ার পার্ক, মহামায়া লেক, নাপিত্যাছড়া ঝর্না, খৈয়াছড়া ঝর্না ,পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক, পতেঙ্গা নেভাল ইত্যাদি।
এছাড়াও নগরীর বাইরেও জেলার ১৫টি উপজেলায় প্রস্তুত একাধিক বিনোদন কেন্দ্র। যার মধ্যে রয়েছে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সাগরপাড়, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মীরসরাইয়ে মহামায়া লেক, আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকত, রাউজানে মহামুনি মন্দির, অনিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি শিশু পার্ক, বেতাগি কর্ণফুলী নদীর পাড়, রাউজান রাবার বাগান, ফটিকছড়ি চা বাগান।
‘পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈকত। ঈদের ছুটিতে এখানে বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের সমাগম ঘটে। এ সৈকতের পাশে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত একমাত্র টানেল। যে টানেল দেখতে প্রতিদিন জড়ো হয় অসংখ্য দর্শনার্থী।’

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন, ‘ঈদে দর্শনার্থীদের বরণে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন রাইডে রং করা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ঈদের চার-পাঁচ দিনে প্রায় লক্ষাধিক দর্শনার্থী আসার সম্ভাবনা আছে। সে লক্ষ্যে আমরা কিছু মেরামত কাজও সেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে চিড়িয়াখানায় মরিচা পড়া খাচাগুলো ঘষে মেজে, নতুন করে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। সম্প্রতি এই চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের জন্য পাশের কয়েকটি পাহাড়ঘিরে গড়ে উঠা ওয়াকওয়ে দর্শনার্থীদের নতুন মাত্রা।
চিড়িয়াখানার পাশেই নগরীর কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি-ওয়ার্ল্ড সেজেছে নতুন সাজে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সেখানেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ৩৩৬ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেক কমপ্লেক্স যার মধ্যে রয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে আঁকাবাঁকা লেক। অ্যামিউজমেন্ট পার্কে সাজানো হয়েছে অনেকগুলো রাইড নিয়ে। উল্লেখযোগ্য রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে, সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, কফিকাপ, রেড ড্রাইল্লাইড, ইয়োলো ড্রাই-স্লাইড, বাগ বইন্স ইত্যাদি। খাবার-দাবারের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে পাওয়া যায় দেশি-বিদেশি নানা রকম খাবারের অ্যাডভেঞ্চার। ঠিক পাশেই দেখা মিলবে হরেক রকম মাছের খেলা। অ্যামিউজমেন্ট পার্কের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই দেখা মিলবে ফয়’স লেকের।
লেকের দু-পাশে রয়েছে সারি সারি পাহাড় আর হরেক রকম গাছ-গাছালি। এখানকার বিভিন্ন পাহাড়ের নামকরণ করা হয়েছে অরুণিমা, জলটুঙ্গি, গোধুলি, অস্তাচল, আকাশমণি, বনশ্রী, হিমঝুরি, আসমানি, গগণদ্বীপ উদয়ণ প্রভৃতি নামে। পাহাড়ের ঠিক উপড়েই আছে ফটো কর্নার যেখানে দেখা মিলবে নানা ভঙ্গিতে হরেক রকম প্রাণির ভাস্কর্য। লেকের গা-ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে সামুদ্রিক প্রাণিদের ভাস্কর্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পিকনিক স্পট অ্যাকুয়াটিক জোন।
ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ দৈনিক চট্টলার খবরকে জানান, ‘ঈদে পর্যটক বরণে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যে রাইডগুলো নষ্ট ছিল সেগুলোর সংস্কার হয়েছে। সব রাইডের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। পার্কটাকে আরও আধুনিক করেছি। লেকে ভ্রমণের জন্য নতুন ইঞ্জিন বোট যুক্ত করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা রিসোর্ট-বাংলো সংস্কার করা হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর দেড়টা থেকে পার্ক খোলা থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, ‘পর্যটনের স্থানগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কুইক রেসপন্স টিম, টহল পুলিশ থাকবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে পতেঙ্গায়, সেখানে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। হেল্প ডেস্কসহ রেসপন্স টিম থাকবে, যাতে করে পর্যটকরা কোনো অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
পর্যটক বাড়লে পরিবহন, খাবার হোটেল, দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ে। তাই ঈদকে ঘিরে নতুন করে ব্যবসায়িক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উন্নত নিরাপত্তা ও বাড়তি আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবারও পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম।
ফখ/মআ/চখ
