chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ইট ভাটার মাটি কাটা ও পরিবহন

রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাদামাটির প্রলেপ, ঝুঁকিতে যান চলাচল

রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মঘাছড়ি থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়কজুড়ে কাদামাটি জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। গত সোমবার মধ্য রাতে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ার পর পরদিন এ সড়কে বেশ কয়েকটি যান বাহন দূর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে। তবে মারাত্মক কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এ সড়কের এই অংশে চলাচলকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। সড়কগুলোতে চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চালক ও যাত্রীরা। মূলত ইট ভাটার আড়ত হিসেবে পরিচিত মঘাছড়ি  হতে রানীরহাট কাউখালী সড়ক পর্যন্ত রাস্তার উভয়দিকে শতাধিক ইট ভাটার মাটি কাটা ও  পরিবহনের কারনে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এক-দুই মিনিটের বৃষ্টিপাতে এ সড়কের উপর পলি মাটির আস্তর জমে থাকায় তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। গাড়িচালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচল এবং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আসায় সড়কে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ওপর পড়ে থাকা এসব কাদামাটি অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়,রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মঘাছড়ি থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়কের ওপর কাদামাটির আস্তরণ জমে রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে রানীরহাট-কাউখালী সড়কের বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয়রা জানান, শুকনো সময়ে এসব সড়কে ধুলো উড়লেও সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। চালক, যাত্রী ও সচেতন মহলের মতে, সড়কের ওপর কাদা জমে থাকলে যানবাহনের চাকা ও পিচঢালা অংশের মধ্যে ঘর্ষণ কমে যায়। ফলে ব্রেক করলে গাড়ি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বাঁক ও ঢালু স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘদিন কাদা পড়ে থাকলে পিচের স্তর নরম হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়কের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং এতে সংস্কার ব্যয় বাড়ে। অপরদিকে ইটের ভাটার কারনে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মঘাছড়ি থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে শতাধিক ইট ভাটার মাটি কাটার কারনে সড়কও ঝুকিপূর্ন হয়ে উঠেছে। মঘাছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের পাশের রাস্তার এমন অবস্থা বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে রাস্তা ধসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

এ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জানান, শুকনো অবস্থায় সড়কে গাড়ি চালালে ভাইব্রেশন হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাদামাটির কারণে ব্রেক চাপলে গাড়ি পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমন অবস্থায় গাড়ি চালানো অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। বাস চালক মোঃ মোহন বলেন, গাড়ি কাদায় বেশি পিছলে যায়। চার চাকার গাড়ী হলেও একটু ব্রেক করতে গেলে গাড়ী ঘুরো যায়। যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি, পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার সময় সড়কে পড়ে যাচ্ছে। অনেক ট্রাক অতিরিক্ত বোঝাই ও ঢাকনাবিহীনভাবে চলাচল করায় সড়কে কাদার স্তর তৈরি হচ্ছে। কিন্ত  একশ্রেণীর প্রভাবশালীর কারনে সাধারন জনগন এর কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।

স্থানীয়দের মতে অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত তদারকি না থাকায় সড়ক নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে। রাতের আঁধারে এমনকি দিন দুপুরেও  ট্রাকে করে মাটি সরবরাহের বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানালেও কার্যকরী কোন ভুমিকা পরিলক্ষিত হয়নি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এসব সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। পাশাপাশি অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন রোধে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও ভূমিকা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন দ-নীয় অপরাধ। সড়কে মাটি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাটি কাটা রোধে ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। রাতের আঁধারে ট্রাকে করে মাটি পরিবহন বন্ধে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরো জানান  রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাউখালী-রানীরহাট মহাসড়কের যে সকল স্থানে মাটি জমে  দূর্ঘটনার স্বীকার হয় সেসব এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া উপজেলার আওতায় হওয়ায় ঐ উপজেলা প্রশাসনকে বেশ কয়েকবার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও কার্যকরী কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি আরো জানান এ বিষয়ে আবারো অবহিত করা হবে।

রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবৃজ চাকমা জানান, মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে কোথাও মাটি জমে থাকলে তা অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি জানা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চখ/ককন