কক্সবাজার সমুদ্রপাড়ের ৬ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা প্রশাসন।
রবিবার সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হলে প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিকাল ৩টার মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে প্রায় ৬ শতাধিক অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে দোকান সরাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বালিয়াড়ি এলাকা খালি করে দিয়েছেন। সৈকতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের অভিযান পর্যায়ক্রমে সব পয়েন্টেই চলবে।’
এর আগে গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতের সৌন্দর্য ফেরাতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এদিকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বার্মিজ পণ্য বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন জানান, গত ১৬ বছর ধরে এই ব্যবসায় ১১ জনের পরিবার চালাতেন তিনি।
শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, “প্রশাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে দোকান সরিয়ে নিলেও ঈদের আগে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আমরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’ ব্যবসায়ীরা এখন জীবনধারণের জন্য মন্ত্রীর সহানুভূতি ও বিকল্প পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন।
ফখ|চখ
