মসজিদে মসজিদে শুরু হয়েছে ইতিকাফ
রমজানের শেষ দশকে চট্টগ্রামে ইবাদতের জোয়ার
পবিত্র রমজানের শেষ দশক শুরু হতেই চট্টগ্রামে বেড়েছে ইবাদত-বন্দেগির পরিবেশ। শবে কদরের প্রত্যাশায় নগর ও উপজেলার মসজিদগুলোতে এখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ভিড় বাড়ছে। তারাবির নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও নফল ইবাদতের পাশাপাশি অনেক মসজিদে শুরু হয়েছে ইতিকাফ। নগর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন ধর্মীয় আবহ আরও গভীর হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, রমজানের ২০ তারিখের পর থেকেই ইতিকাফে বসার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন মুসল্লিরা। মসজিদের ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে বিছানা, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। অনেকেই রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদেই থেকে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় সময় কাটাচ্ছেন।
নগরের চকবাজার, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পাহাড়তলী, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোতে ইতিকাফে বসা মুসল্লিদের দেখা গেছে।
স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির উদ্যোগে তাদের জন্য ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
চকবাজার এলাকার একটি মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল কাদের বলেন, রমজানের শেষ দশকে মানুষের ইবাদতের আগ্রহ সবসময়ই বেড়ে যায়। অনেকেই এই সময় মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ইতিকাফ করেন। বিশেষ করে শবে কদরের প্রত্যাশায় মুসল্লিরা রাত জেগে নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতে সময় কাটাচ্ছেন।
হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবার ইতিকাফে বসেছেন। তিনি বলেন, সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় ঠিকভাবে ইবাদতের সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে থেকে ইবাদত করার চেষ্টা করছি। এতে মন অনেক বেশি প্রশান্ত থাকে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ পাওয়া যায়।
ধর্মীয় আলেমরা জানান, রমজানের শেষ দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। এই রাত পাওয়ার আশায় মুসল্লিরা শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করেন।
চট্টগ্রামের আরেক আলেম মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রেখে একান্তভাবে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা। এতে আত্মশুদ্ধির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ আল্লাহর রহমত লাভের প্রত্যাশা করতে পারে।
এদিকে নগরের অনেক মসজিদে রমজানের শেষ দশক উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারাবির নামাজেও মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়েছে। বিশেষ করে শবে কদরের সম্ভাব্য রাতগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত মসজিদে ইবাদতে মগ্ন থাকছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামে রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের এই আগ্রহ প্রতি বছরই বাড়ছে। নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন আরও বেশি করে মসজিদমুখী হচ্ছেন। মসজিদে মসজিদে ইতিকাফ ও ইবাদতের এই পরিবেশ রমজানের শেষ সময়কে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
চখ
