chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে তরুণদের উদ্যোক্তা উৎসব

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিপণিবিতানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। তবে এবারের ঈদের বাজারে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে শিক্ষার্থীদের পরিচালিত অস্থায়ী স্টলগুলো। নগরীর জামাল খান, চকবাজার, নিউজমার্কেট এবং বিভিন্ন মোড়ের ফুটপাতে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাহারি পোশাক, হ্যান্ডমেইড গহনা, কাস্টমাইজড টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, হিজাব, ব্যাগ, জুতা ও ঈদ উপহারসামগ্রী নিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে এসব স্টল।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা ও ক্ষুদ্র পুঁজি দিয়ে ব্যবসায় নেমেছেন। কেউ অনলাইনে অর্ডার নিচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি স্টল থেকেই বিক্রি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রচারণা।

একাধিক শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের খরচ চালানো এবং পরিবারের উপর চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ। ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশ আশাবাদী।

একজন শিক্ষার্থী দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো। বিশেষ করে কাস্টমাইজড পোশাক ও হাতে তৈরি গহনার চাহিদা বেশি।

ক্রেতারাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বড় ব্র্যান্ডের দোকানের তুলনায় এখানে কম দামে ট্রেন্ডি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে উৎসাহিত করতেও অনেকেই এসব স্টল থেকে কেনাকাটা করছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখা গেলেও, ২০২৬ সালে তা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেবল হাতখরচ জোগানো নয়, বরং নিজেদের সৃজনশীলতাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই ক্ষুদ্র ব্যবসার পথ বেছে নিয়েছেন তারা।

“চেরাগী পাহাড় থেকে জামাল খান মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বসা স্টলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে হাতে তৈরি গয়না, কাস্টমাইজড টি-শার্ট এবং ইনডোর প্ল্যান্ট। মূলত ইফতারের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চকবাজারের অলিগলিতে শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। এখানে স্মার্টফোনের গ্যাজেট, ঘড়ি এবং পারফিউমের ছোট ছোট স্টলগুলো বেশ জনপ্রিয়। যারা একটু সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রেন্ডি পোশাক বা ঘর সাজানোর জিনিস খুঁজছেন, তাদের প্রধান গন্তব্য এখন নিউজমার্কেট এলাকার এই অস্থায়ী দোকানগুলো।”

মার্কেটের বড় বড় শোরুমের তুলনায় এসব স্টলে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও ভিড় করছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফসান, যিনি জামাল খানে একটি টি-শার্টের স্টল দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমরা সরাসরি সোর্সিং করি এবং কোনো বড় দোকান ভাড়া নেই বলে খুব কম লাভে পণ্য বিক্রি করতে পারছি। সাড়াও পাচ্ছি বেশ ভালো।

ক্রেতারা বলছেন, বড় মার্কেটের ভিড় ঠেলে ঢোকার চেয়ে ফুটপাতের এই খোলা পরিবেশের দোকানগুলোতে কেনাকাটা করা অনেক বেশি স্বস্তির। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের দিকে নজর রেখে এই স্টলগুলো সাজানো হয়েছে।

তবে নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় ফুটপাত দখল ও যানজটের বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন পথচারীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও শৃঙ্খলার মধ্যে এসব স্টল পরিচালিত হলে সবার জন্যই সুবিধাজনক হবে।

প্রশাসন বলছে, ঈদের আমেজ মাথায় রেখে এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা সতর্ক রয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রামের জামাল খান ও চকবাজার এলাকায় শিক্ষার্থীদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ। সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে নগরজুড়ে এখন ঈদের আনন্দের স্পষ্ট ছোঁয়া।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর