chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে অনলাইনে ঈদের পণ্য কেনার ধুম

ঈদ সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেসহ সারাদেশে অনলাইন কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে। কয়েক বছর ধরেই অনলাইন কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয়। ঘরে বসেই এখন সবকিছু কেনাকাটা করা যায়। থ্রি-পিস থেকে শুরু করে লিপস্টিক, পাঞ্জাবি-শাড়ি, নারীর গহনা, কসমেটিক্স, হস্তশিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব কিছুই অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে সারা বছরই কেনাকাটা চলে। তবে ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা আরও বেশি জমজমাট হয়ে ওঠে। অনলাইন কেনাকাটায় মধ্য রমজানে এখন সেই ঈদের আবহ শুরু হতে যাচ্ছে।

নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিপণিবিতান যেমন আক্তারজ্জুমান, লাকি প্লাজা,আফমি প্লাজা, সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন বাজার–এ সরাসরি কেনাকাটা চললেও যানজট, সময় সংকট ও ভিড় এড়াতে অধিকাংশ ক্রেতা এখন ঝুঁকছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকে।

দ্বিগুণ অর্ডার, বাড়তি প্রস্তুতি ব্যবসায়ীদের

স্থানীয় অনলাইন উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ঈদ মৌসুমে অর্ডার বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। বিশেষ করে নারীদের থ্রি-পিস, গাউন, কুর্তি, পুরুষদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, শিশুদের পোশাক, কসমেটিকস, জুতা ও হিজাবের চাহিদা বেশি। জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম Daraz Bangladesh ও AjkerDeal–এ চলছে ‘ঈদ মেগা সেল’, ফ্রি ডেলিভারি ও আকর্ষণীয় ছাড়। পাশাপাশি ফেসবুকভিত্তিক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও লাইভ সেল ও প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে জমজমাট ব্যবসা করছেন।

জানা গেছে, দেশে উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক ফেসবুক পেজের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও কেউ কেউ এই সংখ্যা ১০ লাখ বলেও মনে করছেন। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সদস্য প্রায় ৩ হাজার। দেশে সক্রিয় এফ কমার্স (ফেসবুক) উদ্যোক্তা প্রায় ২ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার। নিয়মিত বিক্রি ও সেবা প্রদানকারী পেজের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। ফেসবুকভিক্তিক উদ্যোক্তা ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা এবারের ঈদ সামনে রেখে বেচাবিক্রিতে নতুন স্বপ্ন বুনছেন।

আগ্রাবাদের এক অনলাইন উদ্যোক্তা জানান, “রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে অর্ডারের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে রাত ১০টার পর থেকে লাইভ সেলে ভালো সাড়া মিলছে। অনেকেই একসাথে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করছেন।”

পাকিস্তানি থ্রি-পিস বিক্রি করে এমন একটি পেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত ঈদে প্রায় এক কোটি টাকার মতো লাভ করেছেন। এবার দেড় কোটি টাকা লাভ করার লক্ষ্য রয়েছে। পেজটিতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার থ্রি-পিস বিক্রি হয়।’

ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা: সুবিধা যেমন আছে, শঙ্কাও তেমনি

হালিশহরের বাসিন্দা সাদিয়া রহমান বলেন, অফিস শেষে মার্কেটে যাওয়ার মতো সময় পাই না। অনলাইনে ঘরে বসেই পছন্দ করে অর্ডার দিতে পারছি—এটাই বড় সুবিধা।

চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা মেহজাবিন আক্তার বলেন, ডিজাইন অনেক পাওয়া যায়, দামও তুলনামূলক কম। তবে কখনো কখনো ছবির সঙ্গে পণ্যের মিল না থাকায় হতাশ হতে হয়।

অনেকে আবার ক্যাশ অন ডেলিভারিকে নিরাপদ মনে করছেন। ক্রেতারা বলছেন, অগ্রিম পুরো টাকা পরিশোধের চেয়ে পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ করাই বেশি স্বস্তিদায়ক।

কুরিয়ার সেবায় ব্যস্ততা, সময়মতো ডেলিভারির চ্যালেঞ্জ

ঈদকে ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতেও বেড়েছে চাপ। নগরীর বিভিন্ন ডেলিভারি পয়েন্টে দেখা গেছে কর্মীদের ব্যস্ততা। প্রতিদিন শত শত পার্সেল বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের শেষ সপ্তাহে অর্ডারের চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি নিশ্চিত করতে জনবল বাড়ানো ও অতিরিক্ত শিফট চালু করা হয়েছে।

অনলাইন ব্যবসায় নতুন উদ্যোক্তাদের আগমন

চট্টগ্রামে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনলাইন ব্যবসার প্রবণতাও বেড়েছে। অনেকে ঘরে বসেই নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি পোশাক, হ্যান্ডমেড জুয়েলারি, হোমমেড ফুড আইটেম এবং কসমেটিকসের ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও গৃহিণীরা। এতে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি নগরীর অর্থনীতিতেও যুক্ত হচ্ছে নতুন গতি।

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিয়েছেন—

  • অপরিচিত পেজ থেকে কেনাকাটার আগে রিভিউ ও রেটিং যাচাই করা।
  • সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি বেছে নেওয়া।
  • বিক্রেতার রিটার্ন ও এক্সচেঞ্জ নীতি জেনে নেওয়া।
  • ঈদের অন্তত ৫–৭ দিন আগে অর্ডার সম্পন্ন করা।
  • উৎসবের আমেজে প্রযুক্তির ছোঁয়া

চট্টগ্রামে ঈদ মানেই কেনাকাটার উৎসব। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে কেনার ধরন। ব্যস্ত নগরজীবনে এখন স্মার্টফোনই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বাজার। প্রযুক্তির সুবিধা, ঘরে বসে পছন্দের স্বাধীনতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে দিন দিন অনলাইন কেনাকাটার প্রতি আস্থা বাড়ছে নগরবাসীর।

ঈদের আনন্দকে আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক করতে অনলাইন শপিং এবার চট্টগ্রামে পেয়েছে নতুন মাত্রা।

চখ

এই বিভাগের আরও খবর