ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বৈচিত্র্যময় হরিণ
কক্সবাজারের চকরিয়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাড়ছে প্রাণী জগতের নতুন অতিথি। বাঘ, সিংহ, হাতি, জলহস্তি, কুমির, ভাল্লুকের পাশাপাশি বাড়ছে চিত্রা, মায়া ও সাম্বার হরিণ। পড়ন্ত বিকেলে পার্কের বিভিন্ন জায়গায় দলে দলে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণের পাল। এতে মুগ্ধ হচ্ছেন পার্কে আসা দর্শনার্থীরা। বর্তমানে সাফারি পার্কের শোভা বাড়াচ্ছে নতুন জন্ম নেয়া হরিণের পাল। এখানে তিনশ এর বেশি হরিণ রয়েছে।
পার্ক সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর বন বিভাগের অধীন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুলাহাজারা ও হারগাজা ব্লকের বগাচতর অরণ্যঘেরা বনাঞ্চলটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। সেই থেকে এখানে বন বিভাগ হরিণ পালন ও প্রজনন বাড়তে থাকে। ১৯৯৮ সালে সরকার ওই এলাকার ৯০০ হেক্টর বনাঞ্চলকে জীববৈচিত্র ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা, গবেষণা, ইকো-ট্যুরিজম হিসেবে গড়ে তোলে। পরে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশ থেকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে এটিকে প্রতিষ্টা করা হয়।
আরো জানা গেছে, বর্তমানে পার্কে দর্শনার্থীদের উপভোগের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা বিলুপ্তপ্রায় ১৪৯ প্রজাতিরপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরীসৃপ জাতের ১৫২ প্রজাতির প্রাণী ও ৬১ প্রজাতির পাখি। এ ছাড়াও পার্কে উন্মুক্তভাবে অবাধ বিচরণে রয়েছে ৮০৬ প্রজাতির বন্যপ্রাণী।
পরিচ্ছন্ন স্থানে বিচরণ করা হরিণের টক জাতীয় খাবার প্রথম পছন্দ। এছাড়া কচি ঘাস, পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া নানা সবজিও খায় হরিণের দল। বর্তমানে পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির তিনশ এর বেশি হরিণ রয়েছে। গত ছয় মাসেই বেশ কটি হরিণ বাচ্চা প্রসব করেছে।
সাফারি পার্কের ফরেস্টার মো. মঞ্জরুল আলম বলেন, পার্কের হিসেব অনুযায়ী বেষ্টনীতে বর্তমানে চিত্রা হরিণ রয়েছে ৪৮টি, সাম্বার হরিণ ১২টা এবং মায়া হরিণ ৮টা। এর বাইরে পার্কের আশপাশে উন্মুক্ত অবস্থায় প্রায় তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির হরিণের বিচরণ রয়েছে। এসব হরিণ বিকেলে পার্কের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়।
তিনি আরো বলেন, পার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে পার্কের নির্ধারিত বেষ্টনীতে অবস্থান করা দুর্লভ প্রজাতির স্তন্যপ্রাণী চিত্রা ও মায়া হরিণের বংশবিস্তার বাড়ছে। পার্কে আসা দর্শনার্থীরা এসব হরিণের সঙ্গে দুষ্টুমিও করে। কেউ কেউ ছবিও ধারণ করেন। হরিণের দল মোটামুটি পার্কের পরিবেশের সঙ্গে মিশে গেছে।
চখ/ককন
