৯৫ লাখ টাকার সড়ক এক মাসেই ধস, ১০ মাসেও নেই সংস্কার
রাঙামাটির লংগদুতে ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক এক মাস না পেরোতেই ধসে পড়েছে। ঘটনার পর দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে মাসের পর মাস কেটে গেছে সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।
২০২৫ সালের মে মাসের শেষ দিকে হালকা বৃষ্টিতে মাইনী মুখ ইউনিয়নের উত্তর সোনাই এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন নির্মিত সড়কের একাংশ রিটেইনিং ওয়ালসহ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
তখন উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ঠিকাদারের জামানতের টাকা থেকে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে সংস্কারের কোনো চিহ্ন নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। উল্টো বর্ষা ঘনিয়ে আসায় আশপাশের মাটি সরে গিয়ে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে সড়কের আরও কয়েকটি অংশে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মতিউর রহমান বলেন, ভাঙনের পর অনেক আশ্বাস শুনেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটা ইটও বসানো হয়নি। রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
আরেক বাসিন্দার ক্ষোভ, ৯৫ লাখ টাকার কাজ এক মাসও টিকল না। এখন মেরামতের কথাও শুধু কাগজে-কলমে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মিজান বলেন, এই কাজটি শুরুর দিকে কাজের মান ভালো ছিলোনা। তারমধ্যে কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই ভেঙে গেছে। কিন্তু এখনো ঠিক করার ধারেকাছেও নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই সড়কটি ধসে পড়ে। এখন দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা চরম ভোগান্তির শঙ্কায় রয়েছেন।
তাদের দাবি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ত তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

মাইনী মুখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন (কমল) বলেন, এলাকাবাসীর যাতায়াতের ভোগান্তি দেখে অনেক দৌড়াদৌড়ি করে প্রকল্পটি আনতে পেরেছিলাম। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় রাস্তার রিটেইনিং ওয়াল ধসে গেছে এবং নতুন করে আরো অনেক গুলো অংশের ফাটল সহ ভাঙনের দেখা দিয়েছে। অতিদ্রুত কাজটি সংস্কার করে দেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, আমরা ফাইনাল বিল দিয়ে দিয়েছি। সিকিউরিটি বিল আছে। আমি এক্সিয়েন স্যারকে বলেছি, উনিও বলেছেন ঠিক আছে।
লংগদু উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নেজাম বলেন, পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙেছে, নিম্নমানের কাজ না। ডিজাইন-মেজারমেন্ট সব ঠিক আছে। আমরা ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কল দিলে ঠিকাদার ধরেন না।
এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন, জনগণের টাকায় নির্মিত সড়ক যদি এক মাসেই ধসে পড়ে এবং মাসের পর মাস সংস্কার না হয়, তাহলে দায়বদ্ধতা কোথায়?
তাসু/চখ
